Wednesday, September 19, 2007

পিচ্চিতোষ গোয়েন্দাগল্পঃ কেষ্টা ব্যাটাই চোর!

হরিণাবিষ্ঠ রাজ্যের রাজা পুরন্দরাদিত্যের রাজধানী শৃগালন্দস্থ রাজবাড়ি "বিউটি হাউস" এ এক দুর্ধর্ষ চুরি ঘটে গেছে!

রাজার জন্যে উপহার হিসেবে পাঠানো একটি রাগেস্তানি কমলা চুরি গেছে!

এই গল্পের পদে পদে তাই বিস্ময়বোধক চিহ্নের ছড়াছড়ি! উঠতে বসতে শুধু এই চিহ্ন!!

রাজা পুরন্দরাদিত্য ফলমূল বড় ভালোবাসেন। এক কামড়ে একটা কলা খেয়ে ফেলতে পারেন। ভালো কাঁঠাল পেলে নিজেই মাঝে মাঝে ছাল ছাড়িয়ে কোষকে কোষ সাফ করে ফ্যালেন। রাজার জ্বালায় রাজ্যে কেউ শান্তিমতো আম ফলাতে পারে না, রাজা নিজেই পাইকলস্কর নিয়ে এর ওর বাগান থেকে আম পেড়ে খান। একবার খাটো একটা গাছ থেকে জাম্বুরা পেড়ে না খেয়ে ফুঁড়ে খেয়ে ফেলেছিলেন।

মোট কথা রাজা ফল খুব ভালোবাসেন। এটা খুবই সাধারণ কথা, তাই এতে কোন বিস্ময়বোধক চিহ্ন নেই।

রাজা কিন্তু মূল অতটা ভালোবাসেন না। যদিও বলেছিলাম ফলমূল ভালোবাসেন, কিন্তু বলতে গিয়ে মনে পড়লো, বিভিন্ন রকম মূল রাজা তেমন একটা পছন্দ করেননা। রাণী মৃগনাভি আবার মূল চিবাতে ভালোবাসেন। তিনি মূলা, শালগম, গাজর ইত্যাদি নানা রকম কন্দগোছের জিনিস দিয়ে তরকারি রান্না করেন, রাজা পুরন্দরাদিত্যের মুখ তখন খুব ব্যাজার হয়ে ওঠে।

তো এমনই রাজার জন্যে রাগেস্তানের সুলতান শাহেনশাহ উল্লুকজাদে একটি রাগেস্তানি কমলা উপহার পাঠিয়েছিলেন। অদ্ভূত সে কমলা!! আকারে তরমুজের মতো বড়, রং রংধনুর মতো, আর তার এক একটি কোয়া নাকি অমৃত চোঁয়া!

রাজা রাগেস্তানের দূতের সামনে হ্যাংলাপনা করতে চাননি বলে কমলাটাকে নিজের খাবার ঘরের টেবিলে বালিশখন্দি কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখার হুকুম দিয়েছিলেন। সে কম্বল আসে বালিশখন্দ থেকে, উজবুকি ভেড়ার ডান বগলের পশমের সাথে সোনারূপা মিশিয়ে বোনা সে জিনিস, তা মুড়ি দিয়ে বড় বড় রাজাগজারা শীতকালে ঘুমুতে যায়, সে জিনিস দিয়ে কমলা মোড়ানো হচ্ছে শলুনলে নিশ্চয়ই শাহেনশাহ উল্লুকজাদে খুশি হবেন!

দূত বললো, "আমি ফিরে গিয়ে সুলতানদের সুলতান, পৃথিবীর বুকে চাঁদের জ্যোতি, লাখো শয়তানের ভোররাতের দুঃস্বপ্ন সুলতান শাহেনশাহ উল্লুকজাদেকে বেশক্ বলবো, আপনি তাঁর কমলার কেমন খাতির করেছেন!"

পুরন্দরাদিত্য বললেন, "নিশ্চয়ই বলবে দূত! আমার রাজ্যে তো ফল তেমন ফলে না, যা ফলে তা আমি আর কাকে খেয়ে নষ্ট করে ফেলি, তবে মূল ফলে চমৎকার! শাহেনশাহ উল্লুকজাদে নাকি শালগমের খুব ভক্ত শুনেছি, সত্যি নাকি?"

দূত বললো, "হাঁ! শালগম পেলে উনি নিজে সোনার কুড়াল দিয়ে কুচিয়ে তরকারি রান্না করে খান, এমনকি সুলতানা দুম্বিশেহরকেও ভাগ দেন না!"

পুরন্দরাদিত্য বললেন, "গুড! রাণী সুলতানাদের উচিত নয় দিনভর শালগম চিবানো।" বলে তিনি আবার আড়চোখে রাণী মৃগনাভির মহলের দিকে তাকান।

যাই হোক, মূল গল্পে ফিরে যাই। সেই রাগেস্তানি কমলাটি চুরি গেছে। রাগেস্তানের দূত বিদায় নেয়ার ঘন্টাখানেক পর জানা গেছে এ সংবাদ।

রাজার তো মাথায় হাত। রংধনুরঙা রাগেস্তানি কমলা, সে এভাবে হাতছাড়া হয়ে গেলো? কে সেই নরাধম পামর, রাজার কমলায় দেয় কামড়?

রাজা হুকুম দিলেন, "মন্ত্রী, জল্লাদ ডাকো!" রাজার আবার জল্লাদ ডাকার খুব শখ। তিনি মাঝে মাঝেই জল্লাদ ডাকিয়ে এনে তরমুজ কাটান।

মন্ত্রী কূট বাহাদুর শাস্ত্রী বৃদ্ধ মানুষ, আর তিনি সব কাজে গড়িমসি করেন। তিনি বললেন, "মহারাজ, কাল ডাকি?"

পুরন্দরাদিত্য অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন, "সে কী মন্ত্রী, তুমি শুধু কামচুরি করো কেন? এখনই ডাকো! আর তোমার কাল মানে তো পরশু!"

লজ্জা পেয়ে মন্ত্রী তখনই পেয়াদা ডেকে জল্লাদ ডাকতে পাঠালেন।

জল্লাদ নিকুচি পালোয়ান একটা বড় কুড়াল কাঁধে একটু পর এসে হাজির হলো। সে এসে লম্বা সেলাম ঠুকে বললো, "কোন বদমায়েশের মাথা কেটে আপনার খেদমত করতে পারি হুজুর?"

পুরন্দরাদিত্য বললেন, "আজ তোমাকে সত্যিকারের মাথা কাটতে হবে নিকুচি! কোন এক বদমায়েশ চোর আমার রাগেস্তানি কমলা চুরি করে নিয়ে গেছে। তার মাথা কেটে একটা তশতরির ওপর সাজিয়ে নিয়ে এসো।"

নিকুচি বললো, "জরুর হুজুর! কিন্তু কে সেই চোর?"

রাজা বললেন, "তাই তো!" তারপর মন্ত্রীকে ডেকে বললেন, "মন্ত্রী, কে সেই চোর?"

মন্ত্রী বললেন, "মহারাজ, কালকে বলি?"

রাজা খুব ক্ষেপে গিয়ে বললেন, "মন্ত্রী, তুমি শুধু কামচুরি করো কেন? বেতন কেটে রাখবো কিন্তু! এখনই বলো!"

মন্ত্রী কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, "উঁহুহু মহারাজ, চোরের পরিচয় জানতে গেলে তো গোয়েন্দা ডাকতে হবে। সে প্রথমটায় এসে তন্নতন্ন করে হন্তদন্ত তদন্ত করবে, সাক্ষীদের জেরা করবে, তারপরে না চোর খুঁজে বার করবে? তাতে তো একটা দিন সময় লাগবেই!"

রাজা বললেন, "হুমম। ঠিকাছে, ডাকো গোয়েন্দা।"

মন্ত্রী পেয়াদা ডেকে গোয়েন্দা ডাকতে পাঠালেন।

একটু পরে গোয়েন্দা পাজিরাম পাকড়াশী এসে হাজির। সে রাজ্যের অনেক পাজিকে আগে পাকড়াও করে কোতোয়ালের হাতে সোপর্দ করেছে। তাছাড়া সেনাপতি মারকাট উ সিংহের নির্দেশে সে প্রতিবেশী বিভিন্ন রাজ্যে ছদ্মবেশে মাসুদ্রানাগিরি করেছে বিভিন্ন সময়ে। অবসর সময়ে সে কষে ফেলুদামঙ্গল পুঁথি পড়ে আর বায়োস্কোপে জেমসবন্ডনামা দ্যাখে।

পাজিরাম এসেই রাজাকে সেলাম ঠুকে পকেট থেকে পাইপ বার করে বলে, "আজ্ঞা হোক মহারাজ। কী রহস্য ভেদ করতে হুকুম করেন?"

রাজা পুরন্দরাদিত্য বললেন, "তোমার হাতে ওটা কী?"

পাজিরাম বলে, "এটা ম্লেচ্ছ হুঁকো। তামুক না খেলে গোয়েন্দাদের বুদ্ধি খোলে না। সেই শার্লক দাদুর আমল থেকে এই ভাও চলে আসছে।"

রাজা বললেন, "তোমার তো স্পর্ধা কম নয় পাজিরাম! তুমি রাজার দরবারে তামুক খেতে চাও!"

পাজিরাম বলে, "তামুক আমি বাড়ি থেকেই টেনে এসেছি মহারাজ! এই পাইপটা মাঝে মাঝে শুঁকে ঘ্রাণে অর্ধস্মোকিং করে নেবো।"

রাজা বললেন, "হুম! তোমার তো অনেক বুদ্ধি! এখন যাও, কে আমার রাগেস্তানি কমলা চুরি করেছে খুঁজে বার করো।"

পাজিরাম বললো, "আমাকে গোটা ঘটনা খুলে বলতে হবে মহারাজ!"

পুরন্দরাদিত্য বিরক্ত হয়ে বললেন, "অ্যাই কে আছিস গোটা ঘটনা এই পাজিটাকে খুলে বল! ব্যাটা গোয়েন্দা হয়ে একেবারে মাথাটা কিনে বসেছে! তাকে তামুক খেতে দিতে হবে, তাকে সবকিছু খোলাসা করে আখ্যান করতে হবে ... আর কী চাও বাপু এবেলায় চটপট বলে ফ্যালো! পদে পদে আব্দার করা চলবে না!"

মন্ত্রী কূট বাহাদুর শাস্ত্রী পাজিরামকে সব খুলে বলেন। সব কিছু শুনে পাজিরাম বলে, "হুমম! এলিমেন্টারি, মাই ডিয়ার ওয়াটসন!"

পুরন্দরাদিত্য বললেন, "ওটা কী বললে? গাল দিলে না তো?"

পাজিরাম জিভ কেটে বলে, "না হুজুর, এটা গোয়েন্দাদের একটা বুলি। সেই শার্লকের আমল থেকে চলে আসছে।"

রাজা বললেন, "সব তো শুনলে, তামুকও তো খেয়ে এসেছো, এবার চোর বার করো।"

পাজিরাম বলে, "উঁহু মহারাজ, শুধু শুনলেই হবে না। এবার চোখে দেখে আর নাকে শুঁকে আসতে হবে। অকুস্থলে সরজমিন হন্তদন্ত তদন্ত করতে হবে। তারপর এক এক করে কাহিনীর জট ছাড়াতে হবে।"

রাজা হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, "বুঝলাম, আজ আমার আর সেই রাগেস্তানি কমলায় দাঁত বসানোর জো নাই। ওরে কে আছিস, কী তরকারি রান্না হলো আজ? ভাত দে ভাত খাই।"

রাজার চাকর কেষ্টা এসে বললো, "মূলাশাকের ঘন্ট রান্না হয়েছে জাহাঁপনা!"

রাজা বললেন, "দূর হ বদমাশ। আর এই গোয়েন্দাটাকে সঙ্গে নিয়ে ঐ রাগেস্তানি কমলা কোত্থেকে খোয়া গেছে তা দেখিয়ে নিয়ায়!"

পাজিরাম পাকড়াশী রাজাকে সেলাম করে কেষ্টার সাথে চলে গেলো।

গেলো তো গেলো, আর আসার নাম নেই! দশ মিনিট গেলো, কুড়ি মিনিট গেলো, পাকড়াশী আর আসে না! এদিকে রাজার পেটে ক্ষিদে, মেজাজ খারাপ।

ঝাড়া চল্লিশ মিনিট পর পাকড়াশী এসে হাজির। সে বিরাট এক ঢেঁকুর তুলে বললো, "এলিমেন্টারি, মাই ডিয়ার ওয়াটসন!"

পুরন্দরাদিত্য গর্জন করে বললেন, "এতোক্ষণ ছিলে কোথায়?"

পাজিরাম কুর্নিশ করে বলে, "হন্তদন্ত তদন্তে মহারাজ! বিষয় অতি জটিল!"

রাজা বললেন, "তদন্ত করতে চল্লিশ মিনিট লাগে?"

পাজিরাম বলে, "আম লোকের রহস্যভেদ করতে আমার দশমিনিটও লাগে না। কিন্তু হরিণাবিষ্ঠ রাজ্যের ভূবনজয়ী রাজা পুরন্দরাদিত্যের শৃগালন্দস্থ রাজপ্রাসাদের রহস্য অতিশয় জটিল, একটু সময় লেগে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাছাড়া আমার দুপুরে আহার করা হয়নি, কেষ্টার সাথে মূলাশাক দিয়ে এক থালা ভাত খেলাম। রাজবাড়ির আহার ... আহা, অমৃতও তার কাছে তুশ্চু!"

রাজার পেটে অনেক খিদে, তিনি দাঁত কড়মড় করে বললেন, "কাজের কথা বলো মূর্খ!"

পাজিরাম বললো, "মহারাজ, আপনার রাগেস্তানি কমলাটিই যে শুধু চুরি গেছে, তাই নয়, তার পরিবর্তে সেই ধূর্ত চোর একটি সুপক্ক বুলবুলিস্তানি শালগম রেখে গেছে!"

রাজা এবার হুঙ্কার দিয়ে সিংহাসনের ওপর চড়ে বসে বললেন, "কে কে কে সেই নরাধম, কমলার বদলে রেখে যায় শালগম?"

পাজিরাম বললো, "মহারাজ, আমি হন্তদন্ত তদন্ত করে দেখেছি, কোন বহিশত্রু দরজা বা জানালা বা ঘুলঘুলি পথে এ প্রাসাদে বলপূর্বক প্রবেশ করেনি। প্রহরীরাও জানিয়েছে তারা কোন অপরিচিত লোককে প্রাসাদে প্রবেশ করতে দেয়নি। অতএব ...।"

রাজা সিংহাসন থেকে নেমে বললেন, "অতএব?"

পাজিরাম বললো, "অতএব এ-ই প্রতীয়মান হয় যে চোর প্রাসাদের অভ্যন্তরেই ছিলো, এবং সে পরিচিত কেউ!"

সকলের মাথায় যেন বাজ পড়ে!

রাজা পুরন্দরাদিত্য জল্লাদ নিকুচিকে বলেন, "নিকুচি, দেখছো কি, সবক'টার গর্দান নাও! এখানে যারা আছে সবার!"

মন্ত্রী ডুকরে কেঁদে বলেন, "মহারাজ, এটা কোন কথা হলো? এই পাজিরাম পাকড়াশী একটা গেঁজেল, ঐ ম্লেচ্ছ হুঁকোয় ভরে চৌপর গাঁজা টানে, আপনি ওর গুলগপ্পো শুনে সবার গর্দান নিতে চান?"

রাজা বললেন, "মন্ত্রী, তুমি শুধু অলসই নও, ভীরুও বটে! অন্যায়ের কাছে নত কভু নাহি শির, ভয় পায় কাপুরুষ লড়ে যায় বীর! যাও, পারলে নিকুচির সাথে লড়াই করো।"

পাজিরাম বললো, "মহারাজ! এখানে সবাই তো চোর হতে পারে না। চোর হতে পারে একজন, মহা ধূর্ত সেই ব্যক্তি!"

রাজা বললেন, "কেন সবাই চোর হতে পারে না কেন?"

পাজিরাম বললো, "মহারাজ, রহস্যগল্পের ওটাই দস্তুর! ফেলুদামঙ্গলে তেমনটাই লেখা আছে!"

রাজা বললেন, "তাহলে সে একজনটাকে খুঁজে বার করো বাপু!"

পাজিরাম বললো, "আসুন দেখি সন্দেহের তালিকায় কে কে আছেন! যারা যারা প্রাসাদের ভেতর ছিলেন, সবাই সম্ভাব্য তস্কর!"

রাজা বললেন, "কে কে ছিলো প্রাসাদের ভেতর?"

পাজিরাম ডানে বামে তাকিয়ে বললো, "মহারাজ আপনি, মন্ত্রী কূট বাহাদুর শাস্ত্রী, সেনাপতি মারকাট উ সিংহ, কোতোয়াল ডান্ডে রাও, খাজাঞ্চি মোল্লা মোহর খাঁ, পেয়াদা বজরং বর্মা আর আপনার পরিচারক কেষ্টা।"

রাজা বললেন, "আমি, পুরন্দরাদিত্য, এই হরিণাবিষ্ঠ রাজ্যের রাজা, আমি সম্ভাব্য তস্কর? তাই বলতে চাও তুমি? নিকুচি! এর গর্দান নাও এখুনি!"

পাজিরাম জিভ কেটে বললো, "তা কি কখনো হয় মহারাজ?"

রাজা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। "যাক আমি তাহলে বাদ।"

মন্ত্রী বললেন, "আমি, কূট বাহাদুর শাস্ত্রী, এই হরিণাবিষ্ঠ রাজ্যের মন্ত্রী, আমি সম্ভাব্য তস্কর? তাই বলতে চাও তুমি? নিকুচি! এর গর্দান নাও এখুনি!"

পাজিরাম জিভ কেটে বললো, "তা কি কখনো হয় মন্ত্রী মহাশয়? আপনি কেন চোর হতে যাবেন?"

মন্ত্রী হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। "যাক আমি তাহলে বাদ।"

সেনাপতি বললেন, "আমি, মারকাট উ সিংহ, এই হরিণাবিষ্ঠ রাজ্যের সেনাপতি, আমি সম্ভাব্য তস্কর? তাই বলতে চাও তুমি? নিকুচির নিকুচি করি! আমি নিজেই আমার তলোয়ার দিয়ে তোমার ঐ মোটা মাথা গর্দান থেকে নামিয়ে দিচ্ছি এখুনি! ব্যাটা অপশক্তি কোথাকার!"

পাজিরাম জিভ কেটে বললো, "তা কি কখনো হয় স্যার? আপনি কেন চোর হতে যাবেন? সেনাপতিরা কখনো চুরি করে না।"

সেনাপতি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। "যাক আমি তাহলে বাদ।"

কোতোয়াল বললেন, "আমি, পুরন্দরাদিত্য, এই হরিণাবিষ্ঠ রাজ্যের কোতোয়াল, সকল তস্করকে পাকড়ে ঠেঙিয়ে লাট করি, আর আমি কি না সম্ভাব্য তস্কর? তাই বলতে চাও তুমি? নিকুচি! এর গর্দান নাও এখুনি!"

পাজিরাম জিভ কেটে বললো, "তা কি কখনো হয় বস? আপনি না আমার বস?"

কোতোয়াল হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। "যাক আমি তাহলে বাদ।"

খাজাঞ্চি বললেন, "আমি, মোল্লা মোহর খাঁ, এই হরিণাবিষ্ঠ রাজ্যের খাজাঞ্চি, সোনাদানা সব হিসেব কষে রাখি একটু নয়ছয় হয় না, আর আমি সম্ভাব্য তস্কর? তাই বলতে চাও তুমি? রোসো, তোমার বেতন কোত্থেকে আসে দেখে নেবো!"

পাজিরাম জিভ কেটে বললো, "তা কি কখনো হয় হুজুর? আপনি সামান্য একটা কমলা কেন চুরি করবেন, সোনাদানা ফেলে?"

খাজাঞ্চি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। "যাক আমি তাহলে বাদ।"

পেয়াদা বলে, "আমি, বজরং বর্মা, এই হরিণাবিষ্ঠ রাজ্যের রাজার পেয়াদা, আমি সম্ভাব্য তস্কর? তাই বলতে চাও তুমি? ব্যাটা ফাজিল কোথাকার! দাঁড়া য়্যাক চড়ে যদি তোর দুটো দাঁত না খসিয়েছি ...।"

পাজিরাম জিভ কেটে বললো, "তা কি কখনো হয় দোস্তো? তুমি হলে পেয়াদা, তুমি করবে চুরি?"

পেয়াদা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো। "যাক আমি তাহলে বাদ।"

রাজা এতক্ষণ সব শুনছিলেন, তিনি বললেন, "তাহলে কী দাঁড়ালো?"

পাজিরাম বললো, "এই কেষ্টা ব্যাটা চোর। ও-ই চুরি করে কমলাটা খেয়ে সেটার জায়গায় একটা শালগম রেখে দিয়েছে।"

কেষ্টা চোখ রাঙিয়ে বললো, "ওরে ইষ্টুপিট, তোকে সেধে সেধে মূলাশাক দিয়ে এতগুলি ভাত খাওয়ালাম সে কি আমাকে চোর বলে কল্লাটা কাটিয়ে নেবার জন্য? ব্যাটা পাজি ভূত!" এই বলে সে কোত্থেকে একটা খাটো লাঠি জোগাড় করে ধাঁই করে পাজিরামের পেছনে একটা বাড়ি কষিয়ে দেয়।

পাজিরাম পাকড়াশী প্রাণ হাতে নিয়ে বাইরের দিকে ছোটে, পেছনে পেছনে তাড়া করে যায় কেষ্টা। পাজিরাম ছুটতে ছুটতে একেবারে প্রাসাদের বাইরে চলে যায়, কেষ্টাও তার পিছে ছুটতে থাকে।

আর গোয়েন্দার অভাবে ভালো একটা রহস্যকাহিনী একদম অকালে মাঠে মারা পড়ে।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।