Wednesday, August 22, 2007

২২শে অগাস্ট

আজ অফিসে যাবার পথে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়েনি। প্রতিদিনের মতোই তপ্ত সকাল, ভাঙা রাস্তা, ক্যাব-স্ক্যুটারের যাত্রায় অসম্মতি, রিকশায় করে সিয়েনজি-শিকার ...।

অফিসে অবশ্য আজ কাজে কারো মন নেই। ডেইলি স্টারের পাছার পাতায় ছাপা হওয়া ছবি দেখে অনেকের চক্ষুস্থির। জনৈক উর্দিধারীর পেছনে শূন্যে পদাঘাতক এক ব্যক্তি, সেনাটি পশ্চাদপসরণ নীতি অবলম্বন করেছে। ছবিটা দেখে হর্ষবোধ করিনি। নিজের দেশের বীর সেনাদের এমন ছবি দেখতে চাইনি কখনো। পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশে বাস করি আমরা। কিন্তু ছবিটি একই সাথে মনে করিয়ে দেয় গতকাল ঢাবি-র ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার কথা, যার কারণ কোন এক মাথামোটা সেনার উদ্ধত আচরণ।

আরো মনে হলো, সেনাবাহিনীর প্রতি ছাত্রদের এমন রুষ্ট মনোভাবের পেছনে দায়ী কে? কোন স্পর্ধায় একজন সেনা একজন স্নাতক পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের কলার চেপে ধরে তাকে মারধর করে? "বেসামরিক জনগণের প্রতি সদাচরণ" কেন সেনাদের প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না?

আরো খারাপ লেগেছে সারিবদ্ধ গাড়ি ভাঙচুরের দৃশ্য দেখে। আমি গাড়ির মালিক নই, কিন্তু গাড়ি ভাঙা, গাড়ি পোড়ানোর দৃশ্যে উৎফুল্লবোধ করিনি কখনো। আমি চাই না আমাদের কোন বিশ্ববিদ্যালয়, কোন কলেজ বা কোন স্কুলের ছাত্ররা তাদের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে গাড়ি ভাঙাকে জনপ্রিয় করে তুলুক। এটা একটা ধ্যাষ্টামো। গায়ের ঝাল অন্য লোকের গাড়ির ওপর ঝাড়া ছাত্রসুলভ কাজ নয়।

কিন্তু গতকাল রাতে পুলিশের লাঠিপেটার দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে, এমন মার খেলে ছাত্রদের আর সুবুদ্ধির অবকাশ থাকে না। আমাকে কেউ এমন গরুর মতো প্রহার করলে আমি হয়তো জাহাজ ভাঙতাম।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে খালি মারপিটের খবর পাচ্ছি। টীমের সদস্যরা ফোনে জানাচ্ছে একই কথা, "বস, ভাঙচুর হচ্ছে ...", "ভাইয়া, গন্ডগোল চলছে ..."। সর্বত্র বিক্ষোভ।

এরপর জানতে পারলাম কারফিউয়ের কথা। অফিস কিছুটা আগে ছুটি হয়ে গেছে। বেরিয়ে দেখি রাস্তাঘাটে শুধু পায়ে হাঁটা মানুষের ঢল। গাড়ি চোখে পড়ছে, ক্যাব বা স্ক্যুটার নেই, রিকশাও নেই।

বহুদূর হেঁটে এসে দেখি একটা বাস, তাতে হিংস্রভাবে চড়ছে মানুষ। এ ওকে মেরে গুঁতিয়ে ঝুলে ঝুলে যাচ্ছে। একটা রিকশার ওপর হামলে পড়ছে দশজন লোক। আমি মাথা নেড়ে হেঁটে সামনে এগিয়ে গেলাম, এভাবে পোষাবে না, দরকার হলে হেঁটেই যাবো।

ভাগ্য প্রসন্ন ছিলো, আরেকটু এগিয়ে দূরে এক গলির সুদূর চিপায় এক ঝলক সবুজ চোখে পড়লো। চা খাচ্ছিলেন সিয়েনজিয়েরো চাচামিয়া, আমি মধুরতম সম্ভাষণে তাঁকে অনুরোধ জানালাম আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে, তিনিও মিনিট পাঁচেক আলোচনার পর, ঐ পথে যে কী ভয়ানক যুদ্ধ হয়েছে তার বিবরণ শোনানোর পর রাজি হয়ে গেলেন। আর কিমাশ্চর্যম, তিনি মিটার অনুযায়ীই ভাড়া নেবেন, জানালেন, বাড়তি কিছু আমি যদি দিই তা আমার সেন্স অব ইনসাফ।

বেশ নির্বিঘ্নেই বাড়ি ফিরেছি, কিন্তু গোটা পথে ভাঙা কাঁচের টুকরো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে টায়ারের ভস্ম থেকে ভেসে আসছে ভারি ঘ্রাণ। গোটা পথে পথিকস্রোত।

ভালো লাগেনি, গোটা ঘটনা যেদিকে গড়ালো, একদম ভালো লাগেনি।


No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।