Thursday, August 16, 2007

৭০ এর ঘূর্ণিঝড়

উইকিয়া মুক্তিযুদ্ধ প্রকল্পে ভুক্ত আর্টিকেল।


১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ও ১৩ নভেম্বর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় অংশে এক প্রচন্ড সাইক্লোন বয়ে যায়।


১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলেরা গবেষণা ল্যাবরেটরির ড. আলফ্রেড সোমার্স এর নেতৃত্বে কুড়ি সদস্যের একটি দল উপদ্রুত অঞ্চলের ৯টি থানা ও ৭৯টি ইউনিয়নের ২,৯৭৩টি পরিবারের ১৬,৩৫৩ জন সদস্যের ওপর একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেন। ঝাঁক নমুনা পদ্ধতিতে [CLUSTER SAMPLING METHOD] প্রতিটি ইউনিয়নের দু'টি করে গ্রাম থেকে কমপক্ষে কুড়িটি পরিবার এর সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।


নমুনা তথ্য থেকে অভিক্ষেপ করে ১,৪৭৬,১৩৭ জন (ঐ এলাকায় ১৯৭০ সালে বসবাসকারী জনসংখ্যার ১৫.৬%) মানুষের মধ্য থেকে ২৩০,০০০ মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করেন সোমার্স। তিনি আরো জানান, পারিবারিক সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিলো বিধায় যেসব পরিবার ঘূর্ণিঝড়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিলো, তাদের এ গণনার আওতায় ধরা সম্ভব হয়নি। নভেম্বর মাস ফসল কাটার সময় বলে যে বিপুল পরিমাণ অভিবাসী জনসংখ্যা অন্য এলাকা থেকে সে এলাকায় এসেছিলো, তাদের কথাও হিসাবে আসেনি।

সমীক্ষায় আরো জানানো হয়, ৮৭% ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, এবং তিন মাস পরেও ৫২.৪% মানুষ গৃহহীন অবস্থায় জীবন যাপন করছে। ৭২.৪% পরিবার খাদ্য সাহায্য পেয়েছিলো, এবং ৭৩% নগদ অর্থসাহায্য পেয়েছিলো বলে গবেষণা দল জানায়। লাঙল, বলদ ও বীজের অভাবে ৫৬.৮% পরিবার চাষাবাদে যোগ দিতে পারেনি, এবং জাল ও নৌকার অভাবে ৩৫.১% পরিবার মৎস্যজীবিতায় ফিরে যেতে পারেনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেলের অফিস এ সমীক্ষার রিপোর্ট এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটন, ইসলামাবাদ ও ঢাকায় প্রেরণ করে। পূর্ব পাকিস্তান সরকার ত্রাণ বা সাহায্যের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে অনীহা প্রকাশ করে, এবং বিদেশী পর্যবেক্ষকদের ঐ অঞ্চল পরিদর্শনে অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়।





সূত্র

THE CRUEL BIRTH OF BANGLADESH, আর্চার কে. ব্লাড, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ২০০২।


[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।