Friday, August 10, 2007

লোডশেডিঙের কবলে

ইতোপূর্বে সচলায়তনে প্রকাশিত।



ব্লগের শুরুতেই একটা ক্যাটেগরির কম্বোবাক্স চলে আসে। যা লিখতে চাই তা স্মরণ করেই চোখে আঁসু চলে এলো। কী বলা যায় একে? দিনপঞ্জি তো বটেই। আত্মজীবনীও বলা যেতে পারে। সমসাময়িকই তো, নাকি?




১.



মারাত্মক লোডশেডিং চলছে। এই বিদ্যুৎ আছে, এই নাই। ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে, ব্লগ যবে পাই দেখিতে, হারাই হারাই সদা হয় ভয়, হারাইয়া ফেলি চকিতে।

এদিকে গরম। আগুনের পরশমণি সারা গায়ে। চিটচিটে ঘাম। মিনমিন করে বিধাতার কাছে আরজ গুজার করি, আমার এ দেহখানি তুলে ধরো, তোমার ঐ দেবালয়ের প্রদীপ করো। পাশের গাড়িতে বাজছে রেডিও (টুডে না ফূর্তি জানি না), তাতে এক আপামণি আকূল কাতর স্বরে চ্যাঁচাচ্ছেন, বেহায়া পানি হায়য়য়য়য়য় ... অঙ্গ ভিজাইলো অঙ্গ ভিজাইলো অঙ্গ ভিজাইলো পানিইইইইই। অন্তরাত্মা জ্বলে যায়।

বাড়ি ফিরে গোসল করে দেখি একই হাল। বিদ্যুৎ নির্দিষ্ট ছন্দে আসছে যাচ্ছে। একটু পরেই আবার কুলকুল করে ঘেমে পুনর্মূষিক হলাম।



২.



বেশ কিছুক্ষণ দখিনা বাতাসের মতো আসাযাওয়া করার পর বিদ্যুতের মর্জি ফিরলো। নিশ্চিন্ত মনে বসে কী একটা কাজে হাত দিয়েছিলাম, ইচ্ছে হলো একটু মুড়িমাখা খাবো। এমন সময় ফুট। আবারও আঁধার।

একেবারে নিকষ অন্ধকার চারদিকে। গোটা শহরে ব্ল্যাকআউট। জেনারেটর চালু হয়নি। অন্ধকারে পা বাড়াতে যেয়ে ঘটলো এক দুর্ঘটনা। বড়ই লজ্জাস্কর ব্যাপার।

অন্ডকোষ নিয়ে আমার কোন শভিনিজম নেই। আমি একে ঠিক চেষ্টাচরিত্র করে অর্জন করিনি। পেয়েছি, বয়ে বেড়াচ্ছি, কাজে লাগাচ্ছি কালেভদ্রে। পৃথিবীতে সব স্ট্যান্ডার্ড অন্ডই মোটামুটি শক্ত খোলসের মধ্যে পুরে ডেলিভারি দিয়েছেন ঈশ্বর, হার্ড প্যাকড যাকে বলে। আমাদের কপালেই যে কেন পলিপ্যাকে এলো জিনিসটা, বুঝলাম না। ডোন্ট পুট অল ইওর এগস ইন দ্য সেম বাস্কেট, বলে আংরেজিতে, বাস্কেটের অভাবে ব্যাগে করে সবেধন নীলমণি দু'টি অন্ড বয়ে বেড়াচ্ছি এই জালেম দুনিয়ায়, অন্ধকারে বেখেয়ালে বার করে রাখা চেয়ারে ধাক্কা খেয়ে সব বুঝি পয়মাল হলো।

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা থাকে না, চেয়ারে গুঁতো খেয়ে অন্ডকোষাধ্যক্ষ পদ থেকে একেবারে পড়িমড়ি করে পড়লাম আর কি। এহেন মহার্ঘ্য বাবাজিদের ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট'স গার্ড রেজিমেন্টের মতো সদা সতর্ক প্রহরায় আগলে আগলে রাখবো, এই পেতিজ্ঞা মনে মনে করতে করতে প্রাণপণে দম নেয়ার চেষ্টা করি। একই সাথে মনে হয়, এই ব্যাটারা তো অন্ড নয়, শুক্রকোষ! অন্ডকোষ নাম রাখার মানে কী? পরক্ষণেই বুঝতে পারি কারণটা। ডিমের মতোই সাবধানে আগলে রাখার পরোক্ষ শিক্ষা আছে কথাটার মধ্যে।

দম ফিরে পাবার পর গালিকোষটাও খুলে উল্টেপাল্টে দেখি। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী টুকু তো সপরিবারে জেলের লপসি চাটছে, কিন্তু জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে রেখে (লোডশেডিং আর অন্ডকোষে আঘাত, উভয়ার্থেই) গেছে। আমলা আ ন হ আখতারের নামেও মামলা ঝুলছে দেখলাম। খাম্বারাজ যুবরাজ কোন অন্ধকার কারাকক্ষে আটক, আশা করি ওখানেও চেয়ার আছে। কিছু গালি ইনসাফের সাথে ভাগবাঁটোয়ারা করে দেবার পর ব্যথাটা যেন কিছুটা প্রশমিত হয়।

এর মধ্যে আবার বিদ্যুৎ আসে। খোঁড়াতে খোঁড়াতে টয়লেটে গিয়ে দেখি একেবারে জাতির বিবেকের মতো চেহারা হয়ে আছে আমার।



[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।