Tuesday, August 07, 2007

বন্যায় বিশুদ্ধ পানি

১.



বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার ধারণা কম। বন্যার কারণে একবার শ্রীমঙ্গলে আটকা পড়েছিলাম বহু বছর আগে, পরে খানিকটা বাস, খানিকটা নৌকা এমন করে বাড়ি ফিরতে হয়েছিলো। আবার '৯৮ সালের বন্যায় যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম নিচতলায়, তা রীতিমতো কবলিত হয়ে পড়েছিলো। বারান্দায় বসে দেখছি, বৃষ্টি পড়ছে সমানে, আর ছলাৎ ছলাৎ করে ঢেউ বাড়ি খাচ্ছে, সামনের রাস্তায় গাড়ি চলছে, তার ধাক্কা এসে পড়ছে আমাদের বারান্দায়। পানি আরো বাড়ার আগেই কার্পেট গুটিয়ে ওপরে তুলে রাখতে হবে, এমন বিমর্ষ খাটনির চিন্তা করছিলাম বসে বসে। আমাকে নিশ্চয়ই তখন খুব প্রৌঢ় আর দেখাচ্ছিলো।

খবরের কাগজে বন্যার্ত একেকজন মানুষের চেহারায় আমি আমার নিজের সেই সময়ের ছাপ খুঁজে পাই। বাড়িঘর তলিয়ে গেছে পানির নিচে, "মুল্যবান" জিনিসপত্র কোঁচড়ে করে একেকটা পরিবার খোলা আকাশ কিংবা সামান্য ঝুপড়ির নিচে আশ্রয় নিচ্ছে। খাবার, সুপেয় পানি, ঔষধ, নিরাপত্তা ... সব কিছুর অভাব। আছে সাপের দংশনের ভয়, আছে দুর্বৃত্তের হাতে লুণ্ঠিত হবার ভয়। কী একটা বিকট অসহায় অবস্থা!

সুপেয় পানির সমস্যাটাই বড়। কিছু কম খেয়ে তা-ও টেকা যায়, কিন্তু দূষিত পানি মানেই রোগ। আর অল্প জায়গায় ঠাসাঠাসি করে অনেক মানুষ যখন আশ্রয় নিচ্ছে অপেক্ষাকৃত উঁচু কোন স্থানে, পানিবাহিত রোগ মূহুর্তের মধ্যে মহামারির স্তরে চলে যেতে পারে (স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কোন এলাকায়া প্রতি ১০,০০০ জনে ৪০০ জন মানুষ কোন রোগে আক্রান্ত হলে সেটাকে মহামারি ধরা হয়)।

বাজারে গত বন্যায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট হাওয়া হয়ে গিয়েছিলো কোন মাদারচোদ মজুদদারের কল্যাণে। এবার নাকি এই খানকির বাচ্চারা স্যালাইন হাওয়া করে দিয়েছে। কী আর বলবো।



২.



মাঠ পর্যায়ে সুপেয় পানির এই সমস্যাকে কিভাবে মোকাবেলা করা হয়, আমার স্পষ্ট ধারণা নেই। যাঁরা জানেন, তারা আমাকে জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।

নেট সংযোগ কিছু সময়ের জন্যে বন্ধ ছিলো বলে মাথার ভেতরে কাজ করে চলা একটা ছবি আঁকলাম বসে বসে।

প্লাবনপ্রবণ এলাকায় নিশ্চয়ই প্লাবনের সময় পানিসম্পদ বিভাগ জরিপ চালায়। প্লাবনকে আমরা দু'ভাগে ভাগ করতে পারি, স্বাভাবিক প্লাবন এবং অস্বাভাবিক প্লাবন। ধরে নিই, কোন একটি প্লাবন এলাকা স্বাভাবিক প্লাবনের সময় সে এলাকার ঘরবাড়ি দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত প্লাবিত হয়, আর অস্বাভাবিক প্লাবনের সময় জলসীমা ঘরের জানালা অতিক্রম করে। ভুল যদি না করি, আমাদের দেশে এক দশকে তিনবার স্বাভাবিক বন্যা আর একবার অস্বাভাবিক বন্যা হয়।






অস্থায়ী পাম্প, স্থায়ী স্থাপনা পদ্ধতি




একটি প্লাবন এলাকায় একটি স্থায়ী পাম্পস্থাপনা নির্মাণ করা যেতে পারে। এ স্থাপনায় থাকবে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্ম, যা গত কয়েক দশকের অস্বাভাবিক প্লাবনসীমার ওপরে। প্ল্যাটফর্মটি ধারণ করবে কংক্রীট শেলে আবৃত একটি ৫ মিলিমিটার পুরুত্বের মাইল্ড স্টীলের পাইপ, যা প্রোথিত থাকবে মাটির নিচে পানির স্তর পর্যন্ত।

পাম্প স্থাপনায় কোন পাম্প রাখা হবে না, পাইপের মুখ সীল করে রাখা হবে। যখন বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেবে, তখন সরকারী স্টোর থেকে পাম্প, এনজিন ও সরবরাহ পাইপ রিকুইজিশন দিয়ে এনে এখানে সংযুক্ত করা হবে। পাম্পের জন্য জ্বালানি নিয়ে একজন পাম্পচালক নির্দিষ্ট সময় পর পর এসে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে তা সরবরাহ করবেন স্বেচ্ছাসেবক জলসরবরাহকারী বিভিন্ন দলকে, যাদের কাজ হবে নিজ উদ্যোগ সে পানি বিভিন্ন বন্যার্ত জনপদে সরবরাহ করা। যদি বন্যার্তরা নিজেরা নৌকোয় করে পানি নিতে আসেন, তাহলে আরো সুবিধা।

এ পদ্ধতির মধ্যে কিছুটা স্থবিরতা আছে, দশ বছরে চারবার ব্যবহৃত হবে এমন একটা জিনিস নির্মাণের প্রস্তাব আছে, কিন্তু বিপদের মুখে সুপেয় পানির নিরাপত্তা যোগানো বোধহয় সহজতর হতে পারে।

আমি জানি না, এ পদ্ধতি ইতিমধ্যে কার্যকর কি না। যদি কার্যকর হয়েও থাকে, তাহলে নতুন করে চাকা আবিষ্কারের লজ্জামেশানো আনন্দ নিয়েই নাহয় থাকবো।

সংযুক্ত ছবিটি কিছুটা সাহায্য করতে পারে পাঠককে।




১. প্লাবন অঞ্চলকে কয়েক শত প্লাবন এলাকায় ভাগ করা যেতে পারে, প্লাবনের তীব্রতা ও স্থায়িত্বের ভিত্তিতে। এক একটি প্লাবন এলাকা ত্রাণ ও সহায়তার জন্য প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে থাকতে পারে।



[]

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।