Monday, July 23, 2007

ঢাকা একটি জলামাতৃক শহর

স্বর্গে দুধের নহর বইতো। গাছে গাছে ঝুলতো অপূর্ব থোকা থোকা , আহারের ইচ্ছা করলেই তা আপনা আপনি মুখে এসে হাজির। শরাবন তহুরার সরবরাহও অঢেল, শুধু কষ্ট করে চাইতে হবে। আনাচে কানাচে হাসিমুখে নিয়ত ঘোরাঘুরি করতো যৌবনবতী হুর আর কচি গেলমান। স্বার্গিকদের ব্যাপারস্যাপারই আলাদা। তারা খায় আর কোপায়, কোপায় আর খায়।

হঠাৎ একদিন স্বর্গে ব্যাপক গুঞ্জরণের সৃষ্টি হলো। দুধের নহরে চর পড়ে গেছে।

বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে যে দুধের নহর সতত প্রবাহমান, তাতে হঠাৎ চর পড়ে যাওয়ায় একটু শোরগোল তো হবেই। কিন্তু স্বার্গিকরা এর কারণ চিহ্নিত করতে পারলো না। কারণ আদৌ চিহ্নিত করা প্রয়োজন, এ-ও মনে করলো না তারা। যে দুয়েকজন মুখ খুলেছিলো, তাদের মুখে দুয়েকটা হুরপরীর মাইলব্যাপী স্তন গুঁজে দিয়ে চুপ করানো হলো।

কিছুদিন পর আবারও হইচই। দুধের নহরের দুধ নাকি একটু নোনতা হয়ে গেছে।

স্বার্গিকরা এবার একটু চটলো। কে রে বেয়াদবটা, দুধের নহরে চোনা ফেলেছে? খুঁজে এনে সাইজ করতে হবে।

কয়েকজন যুক্তিবাদী স্বার্গিক এই প্রস্তাবনায় খুঁত ধরলো। স্বর্গে তো মলমূত্রাদির ব্যাপার নেই, চোনা আসবে কোত্থেকে? কারই বা সময় আছে চোনা ফেলার যন্ত্রকে হুর-গেলমানদের কোমল আর্দ্র রন্ধ্রগুলি থেকে বার করে দুধের নহরের কাছে নিয়ে যাবার?

কিন্তু তাহলে দুধ নোনতা হয়ে গেলো কেন?

এক স্বার্গিক বললো, দুধে মনে হয় ব্যাকটেরিয়া ধরেছে। পুণ্যবান ব্যাকটেরিয়া কি থাকতে পারে না?

সবাই খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো। ব্যাকটেরিয়া মানেই অসুখ বিসুখ। না জানি গনোরিয়া হয়। সবাই যে যার হুর-গেলমানদের চোখে চোখে রাখার সিদ্ধান্ত নিলো।

কিছুদিন পর আবারও শোরগোল। স্বর্গের সবচেয়ে চোস্ত জায়গাটা, যেটাকে স্বর্গের ঈশ্বরধানী বলা যেতে পারে, সেখানে দুগ্ধাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। হাঁটু পর্যন্ত দুধ ঠেলে চলাফেরা করতে হচ্ছে, কোথাও কোথাও আবার কোমর পর্যন্ত দুধ, সেই দুধে আবার বিশ্রী ছানা ছানা গন্ধ।

সব স্বার্গিক ক্ষেপে গেলো। স্বর্গে এসব হচ্ছেটা কী? কর্তৃপক্ষ কী করছেন?

দুয়েকজন ফেরেশতা এসে অভয় দিলেন, এ দুধাবদ্ধতা সাময়িক। কেটে যাবে। মহাকালের এ সময়টা মৌসুমি দুদুপ্রবাহের ফলে এমন হতেই পারে।

স্বার্গিকরা এসব ছেঁদো কথায় কান দিতে নারাজ, তারা একটা তদন্ত কমিশন গঠন করে ফেললো।

তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে দেখা গেলো, কিছু বাঙালি স্বার্গিক স্থানে স্থানে দুধের নহর দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি করে ফেলেছে। এ জন্যেই দুধের নহরে চর পড়েছে, নহরের দুধ নোনতা হয়ে গেছে, এবং ঈশ্বরধানীতে ব্যাপক দুধাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ঈশ্বরের কার্যালয়ের সামনেই বুকসমান দুধ।

একজন বললো, কিন্তু তাহলে দুধে এমন গন্ধ কেন?

দেখা গেলো, তারা দুধের নহরে কিছু কয়লা ধোয়ার চেষ্টাও করেছে। এই কার্যক্রমের নামও দেয়া হয়েছে রাশভারি, কয়লা সংস্কার প্রকল্প।

স্বার্গিকদের এসব কারবার দেখে স্বর্গের এক কোণায় এক কর্মক্লান্ত ঢেঁকি কপালের ঘাম মুছতে মুছতে ধান ভানার ফাঁকে বললো, আবালের দল।


1 comment:

  1. সালেহীন23 July, 2007

    ভালো হইছে, হিমু ভাই। এরকম আরো লেখা পড়ার অপেক্ষায় আছি।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।