Thursday, May 17, 2007

প্রশ্নোত্তর

জ্বিনের বাদশা মাঝে মাঝেই ব্রেইনটীজার উপহার দিয়ে থাকেন আমাদের। আমি সেগুলোর উল্টোপিঠে গল্প লেখার অপচেষ্টা করি। এবারও করেছিলাম। জ্বিনের বাদশা বললেন উত্তরটা পোস্ট হিসেবে দিতে। তাতে নাকি হিট হবে। হিটের লোভে তাই পোস্ট দিয়ে দিলাম।

জ্বিনের বাদশার প্রশ্ন:
-------------------------------------------------

"লাবড়াডাগাবড়া ৪: আপনি কাকে গাড়ীতে নেবেন (ইন্সপায়ারড বাই কৌশিক)
২০০৭-০৫-১৭ ১২:৫৪:৩৩


ঝুমঝুম বৃষ্টির রাতে গাড়ী নিয়ে বাড়ী ফিরছেন।
পথে দেখলেন এক দোকানের ছাউনির নীচে তিনজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে ... কারও ছাতা নেই ...এত বৃষ্টি যে তারা হেঁটে যেতে সাহসও পাচ্ছেনা।
কাছে গিয়ে দেখলেন, তিনজনের

একজন এক বৃদ্ধ (যে কিনা এই বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তাকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেয়া উচিত, মানবতার খাতিরে একে সাহায্য করা উচিত),

একজন এক ব্যবসায়ী (খুব ধনী যার গাড়ীটি পথে বিকল হয়েছে, এই লোকের সাথে সবাই ভাল খাতির রাখতে চায়, কারণ সে অনেক ধনী... তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে একে সাহায্য করা উচিত)

আর একজন এক সুন্দরী রমনী (প্রচন্ড সুন্দর আর আকর্ষণীয়া, এই মেয়েটিকে আজ সাহায্য করলে হয়ত প্রেমই হয়ে যাবে)

আপনি চাইবেন তিনজনকেই সাহায্য করতে, মানে লিফট দিতে।
কিন্তু ঝামেলা বাঁধালো আপনার গাড়ী।
ওটায় দুজনের বেশী বসা যায়ইনা।

কাকে নেবেন গাড়ীতে?

কেন?"


আমার গল্পোত্তর:



আমি গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে প্রথমে সেই বৃদ্ধকে গিয়ে বললাম, "দাদু চলুন, আপনাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে আসি।"

বুড়ো খ্যাঁক করে উঠলো, "দাদু কী? দাদু কী? ভাই বলো ভাই!"

আমি একটু দমে গেলাম। বললাম, "ভাই, চলুন আপনাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে আসি।"

বুড়ো তো চটে লাল। বলে, "অ্যাতো বছর পর একটা ডবকা মেয়ের সাথে বিষ্টিবাদলের দিনে ঠাসাঠাসি করে ভিজতে পারছি, আর তুমি হতচ্ছাড়া এসেছো আমার মজাটা মাটি করতে! দূর হও!"

আমি অস্ফূটে বললাম, "কিন্তু ... হাসপাতাল ...!"

বুড়ো তেড়ে আসে। "হাসপাতালে আমি ঢের থেকেছি! নার্সগুলি বজ্জাত। চিমটি দিতে গেলেই ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়!"

আমি আরো দমে গেলাম। বুড়ো দেখি অতীব ঘাগু!

এবার সেই ধনী লোকের দিকে যাই। "মিস্টার চৌধুরী, হাউ মে আই হেল্প ইউ?"

চৌধুরী দাঁতের ফাঁক থেকে সিগার নামিয়ে বলে, "ইয়ং ম্যান, তোমার কাছে কি নেইল কাটার হবে?"

আমি ঘাবড়ে যাই। বলি, "নেইল কাটার?"

মিস্টার চৌধুরী বলেন, "হুঁ। এই ছেমরিকে তখন থেকে সাইজ করার চেষ্টা করছি, কিন্তু এমন খামচি দেয় যে ধারে কাছে যেতে ভরসা পাচ্ছি না। তুমি যদি নেইল কাটার দিয়ে ওর নখগুলি একটু ছেঁটে দিতে পারতে, দারুণ হতো ব্যাপারটা। বোঝোই তো।"

মেজাজটাই খারাপ হয়ে যায়। এবার যাই সেই সুন্দরীর কাছে। কয়েক হাত দূরে থাকতেই সে নখ বাগিয়ে ফুঁসে ওঠে, "খবদ্দার! কাছে আসবি না শয়তান। খামচে দেবো কিন্তু!"

আমি থতমত খেয়ে বলি, "দেখুন, আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই।"

মেয়েটা ক্ষেপে যায়। "খুব হয়েছে! আমার কারো সাহায্য লাগবে না। সাহায্য করার জন্য এই বুড়ো ভাম আর ঐ টেকো হোঁৎকাটা তখন থেকে আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। সাহায্য করতে চায় না ঘেঁচু!"

আমি আমার গাড়িটা দেখাই। বলি, "আপনি চাইলে আমার গাড়িতে আসতে পারেন। আপনাকে নামিয়ে দেবো যেখানে নামতে চান।"

মেয়েটা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আশ্বস্ত হয়। আর হবে না-ই বা কেন। এমন নিষ্পাপ অভিব্যক্তি, এমন সরল ফিলানথ্রপি, এমন ইয়ে আমার চেহারায় ... সে রাজি হয়ে যায়।

বুড়োটা বেঁকে বসে। বলে, "বললেই হলো? হাতের শিকার এভাবে ফসকে যেতে দেবো নাকি আমি?" এই বলে সে হাতের লাঠিটা বাগিয়ে ধরে।

হোঁৎকা মিস্টার চৌধুরীও সিগার দাঁতে কামড়ে বলে, "উঁহু ইয়ংম্যান, এভাবে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে দেবো না তোমাকে।" এই বলে পকেট থেকে একটা পিস্তল বার করে সে।

আমি মেয়েটার দিকে তাকাই। সে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে, "দেখলেন তো?"

আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি, "একা একা দুষ্টুমি করার দিন বুঝি ফুরিয়েই গেলো। দাঁড়ান, নেইলকাটারটা নিয়ে আসি।"


(চলবে)

1 comment:

  1. দুরন্ত হয়েছে । মনে হয় আমি যদি আপনার মত লিখতে পারতাম....

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।