Monday, April 23, 2007

জরুরি অবস্থার অগল্প



এটি গল্প হয়ে উঠতে পারতো নিঃসন্দেহে, কিন্তু হয়ে ওঠার পথেই কিভাবে যেন জরুরি অবস্থার মধ্যে পড়ে ছেদ পড়ে সেই প্রক্রিয়ায়। জরুরি অবস্থায় প্রেম বা কাম সিদ্ধ কি না তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা দেয় সর্বত্র। সিদ্ধ হবার জন্য যা একবার চাপানো হয়, তা সিদ্ধ হবার আগে নামিয়ে নেয়া উচিত কি না তা নিয়েও সুশীল মহলে কথাবার্তা চলতে থাকে। কিন্তু আমি বেপরোয়া।

অগল্পের শুরু বৈশাখের অব্যবহিত পরে। আগেও শুরু হতে পারতো, যদি সে গল্প হতো। কিংবা কে জানে আগে শুরু হলে হয়তো সে গল্প হয়ে উঠতে পারতো। কিন্তু সবকিছুতে বাদ সাধে জরুরি অবস্থা।

বৈশাখের শুরুটাই মনোরম, অগল্পের শুরুটা হতে পারতো পহেলা বৈশাখে বটমূলের কয়েক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে, যেখানে বেয়াড়া বাঙালি নিতান্ত নরম মনোরম হয়ে সাজুগুজু করে জড়ো হয় নানা রঙের নিচে, কিন্তু আমার জরুরি অবস্থা আমাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। জরুরি বাঙালিনীদের সাথে তাই সাক্ষাত ঘটে না আর, গল্পটি অকালপ্রয়াত ব্যাঙাচির মতো মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে সেদিনের ঝড়ের আগ পর্যন্ত।

কিন্তু কেন আমি ঘুমাই, কেনই বা ঘুম থেকে জেগে উঠি, কেন সেদিন ঝড়ের মুখোমুখি পড়ি আমি সে আর আমাদের জরুরি অবস্থা, তা একটি গল্প হয়ে উঠতে পারতো অনায়াসে, কিন্তু তেমন গল্প লেখার অভ্যেস আমার নেই, মাপ করবেন। আমি ঝড় থেকেই শুরু করতে চাই, তা সে গল্পই হোক আর অগল্প।

ঝড়ে অনেক কিছু ওড়ে, কিন্তু সব কিছু ফেলে আমি খুঁজে বার করি খসে পড়া সবুজ রঙের ওড়না। যখন আচ্ছাদনের ডানা গজায়, আমি ভীষণ পুলকিত হয়ে উঠি। একটা কিছু খসে পড়ে একটা কিছু, বা দুইটা কিছু দেখে ফেলার এক ভীষণ আনন্দ দেখে ফেলার আগেই আমার বাড়ন্ত মনে বাসা ভাড়া নেয় অগ্রিম। আমি পটু চোখে কিছুক্ষণ পরই বালিকাকে আবিস্কার করি, সামনেই একটু ঘাড় কাত করে তাকাতে হয় এমন একটি বাড়ির ছাদে। বালিকা তেমন ধামসী নয়, হয়তো হয়ে উঠতে পারে, যেমন ব্যাঙাচি ব্যাঙ হয়ে ওঠে, কিন্তু আমি খুঁজে পাই সেই ঝোড়ো বাতাসের পাল্লায় পড়ে দিশেহারা তার বুক, ওড়নার নিচে যে আপনমনে নিজের মতো করে ছিলো, আচমকা বাতাস আর উদ্বাস্তু জলের ছাঁটে যে বাধ্য হয় কাপড়ের সাথে সেঁটে একদম বাকরুদ্ধ বিস্ফোরণের মতো একটা ব্যাপার হয়ে উঠতে, আমার অগল্প সেখানেই ঘুরপাক খেতে থাকে বুকের ভেতরে হাওয়ার মতো।

প্রথমে ভেবেছিলাম, জরুরি অবস্থা, কিন্তু মূহুর্ত গড়িয়ে যায়, বুঝি ব্যাপারটা নিছক জলপাই উত্থান বা অভ্যূত্থান নয়। জরুরি অবস্থার গিজগিজে হাটেও কেমন যেন ভরভরন্ত সমৃদ্ধির আশ্বাস আমাকে একটু বিশ্রান্ত করে তোলে, আকাশে বেগুনী মেঘের ফোলা পলিথিন ব্যাগের মতো মনে হতে থাকে বালিকাটিকে, মনে হয় যেকোন সময় যেকোন দিকে ভাসতে ভাসতে গলে গলে পড়তে থাকবে বেচারি। জরুরি অবস্থা নয়, আমার শরীরে স্পর্শ করে চারদিক পূর্ণ করে বইতে থাকা হাওয়ার মতো ভালোলাগা। ভালো লাগে এই সমৃদ্ধি দেখে। জরুরি অবস্থা নয়।

অগল্প গল্পের দিকে মোড় নিতে পারতো, কিন্তু আমার ঘরে ফোন বেজে ওঠে, আর বালিকাটিও তার ভেজা বুক নিয়ে সাংঘাতিক ক্লান্ত হয়ে যায় যেন, যেন সে অন্য কারো হাতেই এই পূর্ণতার ভার লাঘব করার দায় চাপানোর জন্যই ত্রস্ত হয়ে ছাদ ছেড়ে নিচে ছুটে যায়। আকাশে মেঘেরা দুলে ওঠে, আমি একটু বিষণ্ন হয় জনান্তিকে গালি দিয়ে উঠি।


No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।