Thursday, October 12, 2006

শাক্তবুলি ০০৩

অর্থনীতির সাথে শক্তির ব্যবহারের একটা সম্পর্ক, একটা হাত ধরাধরি, একটা সংযোগ স্থাপনের জন্য দুটা মাপ সাধারণত ব্যবহার করা হয়। একটা এনার্জি ইন্টেন্সিটি, আরেকটা ইকোনমিক এনার্জি এফিশিয়েন্সি [ই৩]

এনার্জি ইন্টেন্সিটির পোশাকি সংজ্ঞা বেশ জটিল, তবে সহজ ভাষায় বলতে গেলে, প্রতি আন্তর্জাতিক ডলার জিডিপির জন্যে যে পরিমাণ শক্তি খর্চা করতে হয়, সেটাই এনার্জি ইন্টেন্সিটি। বার্ষিক উৎপাদনের জন্য মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়, খাওয়াদাওয়াচলাফেরাকাজকাম করতে হয়, তারপর আসে উৎপাদনের কথা। বছরভর চলেফিরেখেয়েদেয়েকাজকামকরে মানুষ প্রচুর শক্তি খরচ করে, আর কারখানা যানবাহন অন্যান্য জায়গায় যন্ত্রপাতিতে শক্তি তো খরচ হচ্ছেই। গোটা বছরের শক্তিভোগকে গোটা বছরের আয় দিয়ে ভাগ করলেই এনার্জি ইন্টেন্সিটি বার হবে। নাতিশীতোষ্ণ দেশে তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য শক্তি খরচ কম, ওদিকে ঠান্ডা বা গরম দেশগুলোতে অনেকখানি শক্তি ব্যয় হয় এর পেছনে। যাতায়াত, যানবাহনের জ্বালানিদক্ষতা, ব্যক্তিগত যান ব্যবহারের প্রবণতা, ইত্যাদি আরো হাবিজাবির ওপর এনার্জি ইন্টেন্সিটি নির্ভর করে। এছাড়া যুদ্ধ, আইনশৃঙ্খলাপরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এসব তো আছেই।

চুলচেরা হিসেব বাদ দিয়ে কিছু সহজ অঙ্ক আমরাই কষতে পারি। একেবারে নিখুঁত নয়, মোটা দাগে কিছু তথ্য নিয়ে বসা যাক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা যদি ধরা যায়, ২০০৪ সালে তাদের সবিকছু মিলিয়ে শক্তিভোগের পরিমাণ ছিলো ১০৫ বিলিয়ন গিগাজুল [মার্কিন শক্তি অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী], আর জিডিপি ছিলো ১১.৭৫ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার [সিআইএ ফ্যাক্টবুক]। ২০০৪ সালের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইন্টেন্সিটি ছিলো ৮৯৫৫ কিলোজুল।

পাশাপাশি বাংলাদেশের ছবিটাও দেখা যাক। ২৭৫.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার জিডিপির বিপরীতে বার্ষিক শক্তিভোগের পরিমাণ ছিলো ০.৬৪৪ বিলিয়ন গিগাজুল। কর্কট ক্রান্তীয় ঘনবসতিপূর্ণ ১৪৪ মিলিয়ন মানুষের দেশ বাংলাদেশের জন্য এনার্জি ইন্টেন্সিটি দাঁড়ায় ২৩৩৬ কিলোজুল।

ওদিকে ১৪৩ মিলিয়ন মানুষের উঁচু অক্ষাংশের দেশ রাশিয়াতে ১.৪০৮ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার জিডিপির বিপরীতে বার্ষিক শক্তিভোগ ৩১.২৩ বিলিয়ন গিগাজুল। বেচারাদের এনার্জি ইন্টেন্সিটি গিয়ে দাঁড়ায় ২২,১৮০ কিলোজুলের কাছাকাছি! অস্বাভাবিক নয়, জেনারেল উইন্টার যে দেশে শাসন করে, শক্তিভোগের মাত্রা সেখানে বেশি হতেই পারে।

এনার্জি ইন্টেন্সিটি মোটা দাগে এটাই আমাদের জানায়, ১ ডলার বার্ষিক উৎপাদনের পেছনে কতটুকু শক্তি ব্যয় করতে হয়। যে দেশের এনার্জি ইন্টেন্সিটি যতো বেশি, তাদের শক্তি ব্যয়ের অর্থনৈতিক দক্ষতা তত কম। বাংলাদেশ এই বিচারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার চেয়ে এগিয়ে। তবে জীবনযাত্রার মান যেখানে উন্নত, সেখানে এনার্জি ইন্টেন্সিটি সাধারণত বেশি থাকে।


ই৩ বা ইকোনমিক এনার্জি এফিশিয়েন্সির মাপটা ঠিক উল্টো। প্রতি একক শক্তি কাজে লাগিয়ে কত আন্তর্জাতিক ডলার বার্ষিক উৎপাদন হয়, সেটাই জানা যায় ই৩ থেকে। যেমন, বাংলাদেশের জন্য ই৩ গিগাজুল পিছু ৪২৮ ইউএস ডলার, আর ওদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ১১১.৭ ইউএস ডলার, রাশিয়ার জন্য ৪৫ ইউএস ডলার।




৪০টি উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের জিডিপি বনাম ই৩ বোঝা যাবে এ চিত্রটি দেখলে। বাংলাদেশের অবস্থানটা দেখে নিলে ভালো হয়। আমরা আছি "দারুণ দক্ষ", কিন্তু "নিম্ন উৎপাদনশীল" কোয়াড্রান্টে। ভারত, চীন, পাকিস্তান এদিকে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে। ওদিকে উৎপাদনশীলতা আর দক্ষতার দিকে এগিয়ে সুইৎজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া আর হংকং।


গ্রাফিকটির কপিরাইট পিটার কর্লেস, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৫।


No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।