Friday, October 06, 2006

দোয়াপ্রার্থী


প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান পড়ানো হয় কমবেশি৷ সেই বিভাগের জনৈকা শিক্ষিকা যৌবনে পরমাসুন্দরী ছিলেন৷ আমাদের সিনিয়র এক ভাই, তড়ি‍ৎপ্রকৌশলের এক দামড়া তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে সামনের বেঞ্চে বসে ক্লাস করা শুরু করলো৷ তার জুলজুলে চোখের চাহনিতে অতিষ্ঠ ম্যাডাম৷ একদিন ম্যাডাম ক্লাসে এসে দেখলেন, ছোকরা শেরওয়ানি পরে এসেছে ক্লাস করতে৷ তিনি ধুচমুচিয়ে গিয়ে বিভাগীয় প্রধানের কাছে নালিশ ঠুকে দিলেন৷ সরজমিন তদন্ত করতে অকুস্থলে পৌঁছাতেই সেই প্রেমার্ত যুবক প্রধানের কদমবুসি করে সলজ্জ গলায় বললো, "স্যার, আমাদের জন্য দোয়া করবেন৷"

গল্পটা মনে পড়ে গেলো মাননীয় মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া আর মাননীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের জনগণের কাছে দোয়া প্রার্থনার ঘটনায়৷

আজকে টিভিতে দেখলাম, আসলেই ব্যাপার গুরুতর৷ সংসদভবনে পুরো বিয়েবাড়ির আমেজ৷ টিভিচ্যানেলের সাংবাদিকরা বিয়ের ভিডিওর মতোই রেকর্ড করছেন সব কিছু, যাকে পাচ্ছেন হামলে পড়ে সাক্ষাত্কার নিচ্ছেন৷ খাওয়াদাওয়া বোধহয় তেমন একটা হয়নি, আর হলেও উপস্থিত সবাই ভাগ পাননি৷ তাই বিরিঞ্চিবাবার গল্পে সুতোনুটির পাতে-মন্ডা-কম-পড়া বাবুদের মতোই তাঁদের মুখ গোমড়া৷

হায়রে সংলাপ৷ আমাদের দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল এমনই রেষারেষির পর্যায়ে চলে গেছে যে দু'জনে মিলে দুদন্ড আলাপ হবে, এটাই এখন উত্সব৷ তা-ও ভালো এ উপলক্ষে আকাশে বাজি ফোটানো হয়নি, গরু জবাই করে কাঙালিভোজ দেয়া হয়নি৷

সংলাপ তো মোটে শুরু৷ কোনদিকে জল গড়াচ্ছে আঁচ করা মুশকিল৷ আজকে সংলাপে কী হয়েছে বিশদ জানতে পারিনি, হয়তো আজকে তর্কাতর্কি হয়েছে আগামী দিন সংলাপ কোথায় ও কখন অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে৷ হোলেও হোতে পারে, অসম্ভব কিছু নয়৷

ভালোয় ভালোয় সবকিছু ভালো হয়ে আসুক, জলিল আর মান্নান হাতে হাত ধরে জাতিকে এই তপ্ত কড়াই আর জ্বলন্ত চুলা থেকে টেনে তুলুন, একটু শান্তিমতো খেয়েপরেসঙ্গমকরে বাঁচি সবাই, এ-ই আমাদের কামনা৷

আমেন৷


No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।