Wednesday, October 04, 2006

চায়ে গরম


চা আমাদের পানীয়ের তালিকায় আদ্যিকালে ছিলো না৷ বিশেষজ্ঞ নই, পাতলা মোটা বইটই পড়ে যা ধারণা হয়েছে, প্রাচীন বাংলায় পানীয় হিসেবে জনপ্রিয় ছিলো দুধ; শস্যজ [ধেনো] এবং ফলজ ও ফুলজ [দ্বাদশমদ্যে অন্তর্গত, যেমন পানস, দ্রাক্ষ, মাধুক, খার্জুর, তাল, ঐক্ষব, মাধ্বীক, মৌরেয়, টঙ্কমাধ্বীক, নারিকেল] মদ, কবিরাজি আরক, পানের রস, প্রিয়ার অধররস প্রভৃতি৷ রাজারাজড়ার দল পছন্দ করতেন পারস্য থেকে আমদানি করা কড়া ওয়াইন৷ কফি আরব সাগর ডিঙিয়ে আর সেভাবে জায়গা করে নিতে পারেনি আমাদের নরম বদ্বীপে৷ যদিও চা চৈনিক মাল, কিন্তু চীনাদের সে এলেম ছিলো না, আমাদের এর নেশা ধরায়৷ বাঙালিকে চায়ের বদভ্যাস করিয়েছে ব্রিটিশ বেনিয়ার দল৷

এখন চা ছাড়া আমাদের দিন চলে না৷ সকাল থেকে রাত আমরা চা খাই৷ অনেকে কফির মধ্যে কী যেন একটা খুঁজে পান যা চায়ে নেই, তারা কফি পান করেন৷ মশলা ছাড়া বাঙালির জীবন পানসে, তাই সে চায়ে এলাচি দেয়, দারচিনি দেয়, লেবু দেয়, আদা দেয়, দুই চামচ ভদকা দিয়েও চা খায় কেউ কেউ৷ রেগুলেশন চা ডিঙিয়ে কেউ কেউ চায়ের অন্যান্য সংস্করণ পান করেন৷ চা এখন নির্যাসপানীয়ের সমার্থক, কেউ জুঁই ফুলের চা খান, কেউ থাই পাতার চা খান, নেত্রকোণায় গিয়ে পান করেছি এক অসাধারণ জিনিস, কুঁড়ি বেলের চা৷

শিব্রাম চকরবরতি বায়না ধরেছিলেন বন্ধুর কাছে, চা খাও আর না খাও, আমাকে তো চাখাও৷ আমার চা-ই চাই৷ বিজ্ঞাপনে দেখি, গোমড়ামুখো পুরুষের হাতে চা তুলে দেয় বিশালবক্ষা নারী, চুমুক দিয়ে পুরুষটির মুখে হাসি ফুটে ওঠে৷ রাস্তাঘাটে কেটলিতে চায়ের পানি ফোটে, অফিসে চা-চা করে গলা শুকায় লোকজন৷ চায়ের প্ল্যান্টেশন দিয়ে বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকা বোঝাই৷

কিন্তু এমনি জনপ্রিয় লোকনন্দিত চায়ের দাওয়াত দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস কী একটা যেন কেরফা লাগিয়ে দিলেন৷ বেশ একটা হারিয়ে যাওয়া যমজ ভাইকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছিলো রাজনৈতিক অঙ্গনে, মনে হচ্ছিলো আব্দুল জলিল আর মান্নান ভূঁইয়া হয়তো হাতে হাত ধরে মঞ্চে গেয়ে উঠবেন, ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে ... মাঝখান থেকে ঐ চা, ঐ বিউটেনিসের সাধা ব্রিটিশপটানোচীনামাল, কেমন যেন একটা গড়বড় করে দিলো৷ সেক্সি কাজের বুয়া হয়ে যেন ভায়ে ভায়ের মজবুত সম্পর্কে ফাটল ধরালো৷

হায় চা৷ ইয়ে তুনে কেয়া কিয়া?


No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।