Sunday, September 10, 2006

শহুরে ফোনের উৎপাত


[অন্যান্য কিছু পোস্টের মতো অশালীন। শিশুতোষ নয়।]

জুলকারনাইন ডুকরে কেঁদে ওঠেন।

আমি সান্ত্বনা দিতে চাই তাঁকে, কিন্তু ব ফলাটা ফসকে গিয়ে সেটা কেমন একটা নুলো সান্তনা হয়ে ঝুলে থাকা শূন্যে।

জুলকারনাইন বলেন, "আমি তো শুধু অবাধ আর সুষ্ঠ সঙ্গম করতে চেয়েছিলাম শুধু। বেশি কিছু তো চাইনি।"

আমি সস্নেহে হাসি। বেচারা। এরাই তো দেশটাকে পনেরো কোটির চাপে ঠেলেঠুলে দাবিয়ে দিচ্ছে।

জুলকারনাইন পকেট থেকে বার করেন রৌদ্রস্নাত এক টা গাঢ় বেগুনী নিরোধের প্যাকেট। সেখান থেকে তিনটা নিরীহদর্শন কন্ডম বের হয়, চন্দ্রসূর্যগ্রহতারার আলো ছিটকে আসে সেখান থেকে, জুলকারনাইন তিনটি বৃহদাকার বেলুন তৈরি করেন সেগুলোতে বিনামন্ত্র ফুঁ দিয়ে। ঐ শ্বাসটুকু তিনি খরচ করতে পারতেন আরো কিছুক্ষণ ফ্যাঁচফ্যাঁচ করার জন্য, পারতেন একটি গানকে অপটু কণ্ঠে গাইতে, শিস দিয়ে দোয়েল আর ঈভছারখার ছোকরার দলকে লজ্জায় ফেলতে, কিংবা স্ত্রীকে আরো মিনিটখানেক ফুসলিপ্রদানে। কিন্তু বেলুন তিনটি আলোয় আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ফুলে থাকে মন্ত্রীসাংসদবোমারুদের হাস্যোজ্জ¡ল সাফল্যাঙ্কিত চেহারার মতো, আশেপাশে পথচারীরা আঁৎকে ওঠে বেলুন তিনটির অস্তিত্ব দেখে, বেলুনগুলো এত রোদ এত ঝিকিমিকি এত মসৃণতা আর সরকারী সাফল্যের নিখুঁত প্রতিফলন শরীরে নিয়েও তাদের কাছে শুধু তিনটি প্রস্ফূটিত কন্ডমই হয়ে থাকে। দুটি টোকাই বালক ও একটি টোকাই বালিকা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে ঝকঝকে তিনটি বেলুনের দিকে, তাদের বা তাদের জনকজননীর কাছে আবার কন্ডম শুধু বেলুনের কাঁচামাল, টোকাই তিনটি, অর্থাৎ দুটি পুরুষ শিশু যারা হয়তো বড় হয়েও কন্ডম ফুলিয়ে বেলুন বানাবে জুলকারনাইনের মতো আর প্রেয়সীর যোনিতে প্রবেশ করাবে অরক্ষিত অমার্জিত অসংশোধনীয় একেবারে কাঁচা ক্ষেত থেকে উঠে আসা রক্তসমর্থিত উদ্যত শিশ্ন, আর একটি নারী শিশু যে শেষ পর্যন্ত তার যোনিতে উদ্যত শিশ্নদেরকে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়েও কন্ডম পরিধানে রাজিকরাতে পারবে না, মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকে, দেখি তাদের মুখে আশ্চর্য কন্ডমবেলুনের জ্যোৎস্না পড়েছে।

কিন্তু জুলকারনাইন রাহু, জুলকারনাইন কেতু, জুলকারনাইন জুলকারনাইন, তিনি পকেট থেকে শিষ্টতার সাথে বার করেন একটি সেফটি পিন। সেটিকে গুছিয়ে খুব গুছিয়ে খোলেন তিনি। ওভাবেই হয়তো তিনি গুছিয়ে নিজের শিশ্নটিকে বার করেন খাপ খুলে।

"দেখুন এই পিনটাকে।" জুলকারনাইন আমাকে দেখান, পিনের অগ্রভাগটি তাঁর হাতে কী চমৎকার মানিয়ে যায়, মনে হয় এর জন্মই হয়েছে জুলকারনাইনের আঙুলের দক্ষতায় কন্ডমবেলুন ফুটো করার জন্য।

"আমার আশার বেলুন ফুটো হয় এভাবে।" জুলকারনাইন গদাম করে একটা বেলুন ফাটিয়ে ফেলেন, সেটি একেবারে নেতিয়ে পড়ে নেতাদের ভাবমূর্তির মতো, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা উড়ে যায় পাখি হয়ে। টোকাই তিনটি প্রচন্ড আহত হয়। তারা ছটফটিয়ে ওঠে।

"আমার বউ আমাকে বিল পাঠায়। তাকে লাগাতে হলে আমাকে পয়সা দিতে হবে। আমি তাকে মুখের ওপর বেশ্যা বলেছি। সে হেসেছে। বলেছে সে আমার সাথে বাস করে নিজেকে বেশ্যার চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে পারছে না। তবে সে স্প্রেডশীট জানা বেশ্যা। আর সে অর্থনীতি বোঝে, ফিন্যান্স জানে, আর অ্যাকাউন্টিং ক্লাসেও সে মগ্ন ছিলো লেখাপড়ায়। না হলে সে শহুরে ফোনে চাকরি নিতে পারতো না।"

আমি শুনি। একটি টোকাই বালক হুড়মুড়িয়ে ছুটে যায় সিগন্যালে থেমে থাকা গাড়িগুলোর দিকে। ওখানে হয়তো হৃদয়বতী কোন তরুণী পার্স খুলে আলতো করে কিছু ধাতব টাকা বাড়িয়ে ধরবে তার দিকে। অনেক প্রতিযোগিতা, কারণ একটি তরুণী তার আঁচলের নিচে একটি রোগা শিশুকে সম্বল করে ছুটছে গাড়িগুলোর দিকে, স্বাস্থ্যবান এক বুড়ো ক্রাচে ভর করে এগোচ্ছে একই গতিতে, টোকাই বালকটি দৌড়ে পিছিয়ে আছে। কে আছে জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ, গাড়িদুর্গেশনন্দিনীর ইয়া ইয়া মাংসপিন্ডে আড়াল করা খাঁচার ভেতরে ধুকধুক করতে থাকা হৃদয়ের দখললোভীর সংখ্যা বাড়াতে কি পারবে টোকাই ছোকরা?

"আমার বউ আমাকে বিল পাঠিয়েছে ঠিকই। আইটেমওয়াইজ বিল। সঙ্গমের সময় সে প্যাড পেন্সিল নিয়ে বসে। আমি ঠিক কতবার প্রবেশ করলাম, সে টালি কেটে রাখে। তার বুকে কামড় দিলে কিংবা বৃন্ত চুষলেও সে টালি কেটে রাখে। ঠোঁটে চুমু খেলে টালি কেটে রাখে। আমার খুব পছন্দ তার ভারি, নরম, বর্তুল নিতম্বে আঁচড়েখামচে লাল লাল দাগ ফেলে দেয়া, কিন্তু সে টালি কাটে। আমি একদিন উন্মত্ততার ঘোরে, আপনি কিছু মনে করবেন না আবার, উন্মত্ততার ঘোরে তাকে উপুড় করে শোয়াই, তারপর উপগত হই সদোম আর গোমর্হার বদলোকদের কায়দায়, আমি কেমন যেন গোলাম রসুল হয়ে যাই, প্রবেশ করি ভুল দরজায়, সে চিৎকার করে উঠেছিলো, কিন্তু টালি কাটতে ভোলেনি।"

আমি কিছু বলি না। জুলকারনাইন ধাম করে আরেকটা বেলুন ফাটান। টোকাই বালকটি শিউরে উঠে এক পা পিছিয়ে যায়। দূরে সিগন্যাল পাল্টায়, মঙ্গোল অশ্বের মতো ছুটতে ছুটতে ফিরে আসে উপার্জনপ্রবণ টোকাই বালকটি।

"তারপর সে আমাকে বিল পাঠায়। তার নাম লেখা প্যাডে। সেখানে লেখা, সাপ্তাহিক সঙ্গমের বিল। ইনকামিং সব। শুধু ঠোঁটে চুমু খাওয়াটা মাফ করেছে, ওটা নাকি গ্রাটিস। পায়ুকাম তার কাছে অত্যন্ত খরুচে ব্যাপার, আমি যা দেখলাম বিলে। আমাকে প্রায় নিঃস্ব করে ছেড়েছে।"

আমি নিশ্চুপ থাকি। জুলকারনাইন শেষ বেলুনটিকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আমার দিকে তাকান ক্রুদ্ধ চোখে।

"আমি তার বিল মিটিয়ে দিয়েছি। যেকোন আত্মসম্মানজ্ঞানসম্মপন্ন মানুষই মিটিয়ে দিতো। কিন্তুু তাকে মুখের ওপর আবার বেশ্যা বলেছি। সে হেসেছে, ভাবতে পারেন? বলেছে, তার এই আয় নাকি ট্যাক্সের বাইরে। কারণ অর্থমন্ত্রী এখনও সঙ্গমের ওপর ট্যাক্স ধরেনি। আমি তাকে অসংস্কৃত ভাষায় বলেছি, মাগী। সে বলেছে, আমি নাকি মাগীর চেয়ে বেশি কিছুর আশা যাতে না করি।"

আমি কী আর বলবো? জুলকারনাইন কন্ডমের অপভ্রংশটি হাতে নিয়ে কাঁদতে থাকেন।

"আমি তারপর অভ্যস্ত হয়ে যাই। সে এরপর নতুন নতুন খাতে টালি কাটতে থাকে। যেমন, একদিন আমি ঘোরের মধ্যে ক্ষেপে গিয়ে বলি, চুৎমারানি, অমনি সে টালি কেটে বসে। পরে বিল দেখে আমার মাথায় হাত দেয়ার দশা। ঐ মাসে আমি এক জোড়া নতুন জুতা কিনতে চেয়েছিলাম, সেটা পিছিয়ে যায়। তারপর ওর পা দুটো কাঁধে নিয়ে সেই কাজটা করার সময় আমি মাঝে মাঝে ওর পাছা, যাকে বলে রাম্প, ওখানে চাপড় দিতাম। ঐ চাপড়ের ওপরও টালি কাটতে থাকে মহিলা।"

"আপনি প্রতিবাদ করেননি?" আমি না বলে পারি না।

জুলকারনাইন এবার ঘুষি মেরে ফাটিয়ে দেন বেলুনটা। তিনটি টোকাইয়ের মুখে নেমে আসে কন্ডমের বেলুনগ্রহণ। তারা গম্ভীরমুখে পিছিয়ে যায়।

"করেছি। কিন্তু মহিলা ভয়ানক গোঁয়ার। বলেছে, পছন্দ না হলে আমি ঐ প্যাকেজ ব্যবহার করবো না, বাস, প্রতিবাদের কিছু নাই। আমি ওয়ান ওয়ে টু ওয়ে থ্রি ওয়ে কানেকশন নেবো কি নেবো না সেটা আমার মানিব্যাগের ব্যাপার। কোথায় চাপড় দেবো, কোথায় খামচে ধরবো, কী কামড়াবো, কী চুষবো সবই তো আমি জানি, না জেনে তো করছি না, বলে সে। আমাকে বলে, সামর্থ্য না কুলালে ধার করতে পারো। ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পীবেৎ। আমাকে কয়েকটা ব্যাঙ্কের লোন অফিসের নাম্বার দিয়েছে। বেশ্যা বেশ্যা বেশ্যা!"

আমি কিছু বলি না। আশেপাশের ব্যায়ামপটু কয়েকজন প্রকান্ডদেহী মহিলা হাঁপাতে হাঁপাতে চলে যান।

"তারপরও আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে একদিন বললো, দ্যাখো তোমার যদি বিল শোধ করতে ভালো না লাগে তুমি প্রিপেইড কানেকশন নিতে পারো। এককালীন টাকা জমা রাখো, তারপর সেই টাকা ফুরিয়ে গেলে আবার নতুন করে জমা রাখো।"

"হুমম, মন্দ নয়।"

"বাল, আপনি কিছুই জানেন না। একদিন হঠাৎ মধ্যসঙ্গমে এসে আমার প্রিপেইড ব্যালান্স ফুরিয়ে যায়, আর অমনি সে আমাকে মাঝপথে বার করে দেয়, আমি জোর করে আবার প্রবেশ করার চেষ্টা করি, কিন্তু মহিলা জুডো জানে।"

আমি চুপ করে যাই।

"আমি তারপর আবার মানিব্যাগ থেকে নগদ টাকা এনে তাকে দেই, সে গুনে দ্যাখে, হাতে থুতু মাখিয়ে সে গুনে গুনে দ্যাখে, টেবল ল্যাম্প জ্বালিয়ে নোটগুলোতে জলছাপ দ্যাখে, তারপর আবার ঠিকমতো শোয়। ততক্ষণে আমার সব রক্ত মাথায় গিয়ে জমা হয়েছে। আমার উত্থান আর আসে না সে রাতে। আমি ছটফট করে মরি। সে ঘুমিয়ে পড়ে।"

আমি মর্মান্তিক হাসি মনে মনে।

"আমি তবুও অভ্যস্ত হয়ে যাই, বুঝলেন। বেশি করে টাকা জমা রাখি প্রত্যেকবার লাগানোর সময়। কিছু মনে করবেন না, লাগানো বলে ফেললাম। হ্যাঁ, সঙ্গমের আগে বেশি করে টাকা জমা রাখি। তারপর করি। ঈশ্বরের নাম নিয়ে করে যাই। ও-ও খুব উৎসাহ দেয় আমাকে উঠতে বসতে। পাতলা জামা পরে থাকে, গুনগুন করে গান গায়, সুগন্ধি মাখে, আমার গায়ে এখানে ওখানে হাত বুলিয়ে দেয়, চুলকে দেয় ... কী বলবো? ফুসলানোর কিছু বাকি রাখে না সে। আমি বলি, বেশ্যা। সে হাসে। বলে হ্যাঁ। বেশ্যা।"

জুলকারনাইন কাঁদেন। আমি মনে মনে গড়াগড়ি খাই।

"আমি তবুও অভ্যস্ত হয়ে যাই, বিশ্বাস করেন। কিন্তু মহিলা চরম বেশ্যা, সে পীক অফ পীক সুপার অফ পীক বের করে। যখন তার খুব একটা মর্জি থাকে না, তখন পীক। যখন তারও উৎসাহ থাকে এ ব্যাপারে, তখন অফ পীক। যখন সে-ই যেচে পড়ে করতে চায়, তখন সুপার অফ পীক। আপনি এই মহিলাকে বেশ্যা বলবেন না তো কী বলবেন?" জুলকারনাইনের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে।

আমি বলি, "আপনি পরকীয়া করেন না কেন? কিংবা উল্টো বিল করেন না কেন?"

জুলকারনাইনের চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। "য়্যাঁ? কী বললেন? কী? ---ওহ, দারুণ তো! আরে দারুণ বুদ্ধি দিয়েছেন তো ভাই? য়্যাঁ? করেছেন কী? আপনি তো দারুণ বুদ্ধিমান ভাই?" তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরতে চান, আমি রাজি হই না। ব্যাটা খচ্চর, বউকে পয়সা দিয়ে লাগায়।

জুলকারনাইন উঠে নাচতে থাকেন। "আর বউকে পয়সা দিয়ে লাগাবো না! এইবার আমি পরকীয়া করবো। মিষ্টি নরম প্রেম। মাঝে মাঝে প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুরবো ফিরবো সিনেমা দেখবো রেস্তোরাঁয় খাবো, আর আদাড়ে বাদাড়ে হোটেলে মোটেলে নিয়ে গিয়ে প্রিপেইড পোস্টপেইডের মায়রে বাপ বলে করবো। বিল ছাড়া সঙ্গমমমমমমমমম! ইয়াহু! হটমেইল! জিমেইল!" তিনি হবো হবো সন্ধ্যাবেলা নাচতে থাকেন সংসদ ভবনের এপাশে ক্রিসেন্ট রোডের ফুটপাতে। আশেপাশে সবাই ঝেড়ে দৌড় মারে।

জুলকারনাইন আচমকা থেমে আমার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকান। বলেন, "কিন্তু সবার আগে আমি ঐ শহুরে ফোনের কর্পোরেট অফিস বোমা মেরে উড়িয়ে দেবো। ঐ শালারাই আমার বউকে এইসব দুইলম্বরি শিখিয়েছে। আমার মিষ্টি বউটাকে বেশ্যা বানিয়েছে। পীক অফ পীক সুপার অফ পীক আমি শালাদের সব ওয়ে দিয়ে ভরে দেবো।"

আমি জুলকারনাইনকে একটা কিছু বলতে যাবো, তিনি আমাকে থামিয়ে দেন। বলেন, "যান তো ভাই নিজের কাজে যান। বাজে গল্প শুনে সময় নষ্ট করবেন না যান । ভাগেন। মুভ ম্যান মুভ।"

আমি উঠে চলে আসি হাঁটতে হাঁটতে। পেছনে তাকিয়ে দেখি জুলকারনাইন উদ্বাহু নৃত্য করছেন। মনে মনে ভাবলাম, বিল দেয়ার জন্য কি ব্যাটাকে ব্যাঙ্কে বা বউয়ের কাছে লাইন ধরতে হতো নাকি? ভাবলাম আর খিক খিক করে হাসলাম।


No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।