Friday, September 29, 2006

খিটকেল


নীললোহিতের একটি গল্পেই বোধহয় পড়েছিলাম, জনৈকা সাঁওতাল প্রৌঢ়া একাধিক দারুণ সঙ্কটে পড়ে করুণ কণ্ঠে পরিস্থিতিটাকে আখ্যা দিয়েছিলেন খিটকেল বলে। এখন দেশের অবস্থাকে খিটকেল ছাড়া আর কীই বা বলা যায়?


খিটকেলের সংজ্ঞা দেয়া যেতে পারে এভাবে, যে পরিস্থিতিতে পর পর দু'টি দারুণ অঘটনের মধ্যে পার্থক্য করা যায় না, বা পাবলিকের মনোযোগ পৃথকভাবে পর পর দু'টি অঘটনের দিকে ধাবিত হতে পারে না, সেটিই খিটকেল। সংযমলোলুপ বাঙালি মুসলমান রমজানের গোড়া থেকেই খিটকেলের মধ্যে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় প্রফেসর আফতাব আহমেদের বাসায় ঢুকে তাঁকে গুলি করে খুন করা হলো, ওদিকে যশোরে চার লাখ লোক দুষ্পরিকল্পিত বাঁধ আর স্লুইসগেটের চক্করে পড়ে পানিবন্দী, সারা দেশে বিদ্যুতের ভয়াবহ ঘাটতি, দক্ষিণে আবহাওয়া বিভাগ আর বেতার বিভাগের ষন্ডামোর পাল্লায় পড়ে ট্রলারডুবিতে লাশ ভাসছে সাগরে ... তার ওপর আবার রাজনৈতিক কোন্দল, এসবের মধ্যে পড়ে পাবলিক নিত্যনৈমিত্তিক জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির রকেটায়নের ব্যাপারটা যেন আর পাত্তাই দিচ্ছে না। কোন এক বছর বেগুনের দাম বেড়ে যাওয়ার পর মিডিয়াতে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছিলো, সেই বেগুনের দাম বাড়ার ব্যাপারটাও এখন ডালভাত হয়ে গেছে। এখন খিটকেল চলছে, বেগুনের দাম বাড়লো কতদূর তা নিয়ে পাবলিক আর মাথা ঘামায় না, মানুষের প্রাণের দাম কতটুকু কমলো সেটাই সবার মনোযোগের বৃষচক্ষু। পত্রিকা আর ইলেকট্রনিক মিডিয়া এখন মানুষের প্রাণের দামের ইনডেক্স পেপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।


খিটকেলে অনেকের ক্ষতি। তবে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের লাভ হয়। পাবলিক মুষ্টি পাকিয়ে মাপ নিচ্ছে সেসব লোকজনের। পরে মুষ্টি অন্য কাজে লেগে যেতে পারে।

No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।