Thursday, September 28, 2006

বিদ্যুতের দুর্ভিক্ষ



পিপাসার্ত চোরকেও মানুষ ফেরায় না, মুখে পানি দেয়, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা জনগণ শালা চোরেরও অধম। বিদ্যুদ্বঞ্চিত বাংলাদেশের বিদ্যুৎপিপাসাকে সরকার পাত্তাও দিচ্ছে না। নানারকম কড়ামিঠা স্তোকবাক্যে লোকজনকে বুঝ দেয়ার একটা অপচেষ্টা তো আছেই, সঙ্গে আছে পুরনো সরকারের ওপর দোষ চাপানোর সেই সর্বজনচর্চিত কৌশল।

এদিকে বিদ্যুদ্ব্যবস্থার উন্নয়নের নামে যা হয়েছে সেটা হলো সামান্য সঞ্চালন আর বিপুল বিতরণ মহাযজ্ঞ। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের ব্যাপক কোদাকুদির ফল হচ্ছে টঙ্গীতে ৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি চৈনিক প্ল্যান্টস্থাপন, যেটি নাকি আধঘন্টা চলার পর সেই যে হোঁচট খেয়ে পড়েছে, আর ওঠার নাম নেই। প্ল্যান্ট ঠিক করতে না পেরে সরকার শেষ পর্যন্ত প্ল্যান পাল্টেছে বোধহয়, যাবতীয় দলিলদস্তাবেজ এখন স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের কোৎখানায়। আসল দুর্নীতিটা বোধ করি বিতরণ ব্যবস্থার হরির লুটেই হয় ... বিতরণ ব্যবস্থা মানেই প্রচুর আরসিসি প্রিকাস্ট খাম্বা, প্রচুর ওভারহেড কেবল, ইনসুলেটর, ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার, ফিউজ, মিটার, ইত্যাদি হাবিজাবি ক্রয়, আর দুর্নীতি। কিন্তু যে জিনিসটি বিতরণ করা হবে, সেটি যদি উৎপাদন করা না হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত অশ্বডিম্বের অমলেট ছাড়া আর কী থাকতে পারে শালা আমাদের জনগণের জন্য? এ তো ভুখা পাবলিককে টয়লেট পেপার বিলানোর মতো অবস্থা।

ভুগছি তো আমরা। মলয়ালয়ের মহাপুরুষেরা তো আরামেই থাকেন। বিদ্যুৎ সমস্যার আধুনিক উপশম হিসেবে এসেছে জেনারেটর, কিন্তু তারও হ্যাপা কম নয়। সাংখ্যিক উদাহরণ দেই। আমরা বাড়িভাড়ার সাথে মাসিক ৩০০ টাকা দিচ্ছি জেনারেটর চার্জ। লোডশেডিং হলে ডাইনিং হলের একটি ফ্লোরোসেন্ট বাতি (৪০ ওয়াট) আর একটি সিলিং ফ্যান (৪০ ওয়াট) সেটা দিয়ে জ্বলে আর চলে। দিনের বেলা দুঘন্টা লোডশেডিং হয়, তখন শুধু সিলিং ফ্যান ঘোরে। সন্ধ্যের পর বাতিটাও ফ্যানকে সঙ্গ দেয়, সব মিলিয়ে গড়ে তিন ঘন্টা। তার মানে দিনে ৪০ * ২ + (৪০ + ৪০) * ৩ = ৩২০ ওয়াটআওয়ার পোড়াচ্ছি আমরা জেনারেটরের কল্যাণে। মাসে ৯৬০০ ওয়াটআওয়ার, ধরে নিই মেরেকেটে ১০ ইউনিট (জেনারেটরের ডিমান্ড আর সার্ভিস চার্জের তুল্যমূল্য ওর ভেতরে ভরে দিলাম)। ১০ ইউনিটের মূল্য আমাকে শুধতে হচ্ছে ৩০০ টাকা। তার মানে ইউনিটপিছু ৩০ টাকা। মোমবাতির খরচ বাদ দিলাম। বাদ দিলাম বিদ্যুতের অভাবে আমার ভোগান্তির দাম। বাদ দিলাম বিদ্যুতের কারণে আমার ভেস্তে যাওয়া কাজের বাজারমূল্য। বাদ দিলাম বিদ্যুতের কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফ্রিজের খাবারের দাম। শুধু মাত্র বিদ্যুতের পেছনে আমাকে গুণতে হচ্ছে প্রায় বারোগুণ দাম।

আমার পকেট থেকে বেরিয়ে যাওয়া এই পয়সায় কিন্তু বেচারা বাড়িওয়ালা লাভবান হচ্ছেন না। ঐ ৩০০ টাকার প্রায় পুরোটাই তাঁর চলে যায় তেল কিনতে। লাভবান হচ্ছে সেইসব খানকিরপোলারা যারা চুরি করে, আর চুরিতে তাল দেয়। এই শুয়োরের বাচ্চাদের জন্য প্রতিটা দিন আমরা অসহনীয় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

পাঁচ বছর চলে গেলো, মাননীয় সরকার বাহাদুর, আপনারা জনগণের জরুরি চাহিদা মোকাবেলার কোন ব্যবস্থা করতে পারেন না। আপনাদের সর্দিকাশি হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্লজ্জের মতো সরকারী কোষাগারভাঙা পয়সায় সিঙ্গাপুর ব্যাঙ্কক ঘুরে আসেন, আর আমরা বাল ফেলতে ভাঙা জনগণ হয়েছি, আপনাদের মতো বালের পলিটিশিয়ানদের ভোট দিয়ে একবার তুলবো আর একবার ফেলবো শুধু সেই কাজের জন্য, না? দুর্নীতি না করলে ঐ সিস্টেম লসের টাকায় আরো হাজারখানেক মেগাওয়াট গ্রিডে যুক্ত করা যেতো।

এখন সময় এসেছে, একটা একটা করে খুঁজে বের করতে হবে, কোন চুদির ভাই মিটার রিডার গুলশানে বাড়ি করেছে, তার প্রতিবেশী কোন চুদির ভাই নির্বাহী প্রকৌশলী। এদের বাড়িঘর চিহ্ণিত করে পত্রিকায় লালকালিতে শিরোনাম করে দেয়া হোক, কিভাবে এরা বিদ্যুদ্বিভাগে সরকারী চাকরি করে কোটি টাকা দামের বাড়ি কেনে। তারপর ঘেরাও করা হোক। ঢাকা শহরে একটা দুইটা লোক বাস করে না। সবাই মিলে এই মাদারচোদদের ঘেরাও করি। বড় বড় মন্ত্রীসচিবের পাপের ফিরিস্তি তারপর নেওয়া যাবে।

শুয়োরের বাচ্চারা।


4 comments:

  1. সমস্যাটাতো পুরোনো। ঈদ আসলেই এই সমস্যা আরো প্রকট হয়। সমাধান কিভাবে কে জানে?

    - এস এম মাহবুব মুর্শেদ

    ReplyDelete
  2. bhalo kotha.
    tobe "Biral"er golay ghonta ta badhbe ke?

    ReplyDelete
  3. Himu, tumi akta "bagher bachcha" (rhetorically speaking)

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।