Friday, September 01, 2006

একটি নাটুকে গল্পাংশ


... মুনা ঘুরে দাঁড়ায় ঝটকা মেরে। তারপর হুহু করে কেঁদে ওঠে। ''কী করে পারো বাবা, তোমরা কী করে পারো?'' কান্নার দমকে তার পিঠ কেঁপে কেঁপে ওঠে, খসরু সাহেব থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন চেয়ার ছেড়ে।

''কিন্তু কেন মা?'' অসহিষ্ণু গলায় শেষে বলেন তিনি। ''ছেলেটাকে তুই দেখেছিস তো! সেদিন তো আবার চাইনিজ খেলি গান্ডেপিন্ডে, গল্পসল্প করলি, ফোনেও কয়েকদিন গুজগুজ করলি, পছন্দই তো হয়েছিলো বলেছিলি আমাদের, আজ এই বায়না কেন? ওরা আংটিটাংটি গড়িয়ে এনেছে, পরশু তোকে পরাতে আসবে ... সলটু কী এমন খারাপ কাজ করলো?''

মুনার কান্নার দমক একটু কমেছে, সে চোখের পানি মোছে ওড়নায়।

''ও .. ও তোর সাথে কোন অভদ্রতা করেনি তো? অশ্লীল জোকটোক বলেছে নাকি? দ্যাখ এই বয়সের ছেলেপিলে এরকম একটু করেই ... রসিকতাকে সহজভাবে নিতে শেখ ...।'' খসরু সাহেব বোঝানোর চেষ্টা করেন।

''না বাবা!'' মুনা চোখের পানি মোছে। ''সলটু খুবই রসিক ছেলে, আর ডার্টি জোক আমার ভালোই লাগে, স্বাধীন মিত্রের বড়মণিদের কৌতুক তো আমিই ওকে গিফট করেছিলাম!''

''তাহলে?'' খসরু সাহেব শঙ্কিত হয়ে বলেন। ''কোন কুপ্রস্তাব দিয়েছে? শুয়োরের বাচ্চা ... অ্যাতোবড়ো সাহস ...!''

মুনা ফুঁসে ওঠে, ''বাবা, কী যে বলো তুমি!''

খসরু সাহেব মাথা চুলকান। ''তাহলে? কী সমস্যা পেলি সলটুর মধ্যে?''

মুনা কিছুক্ষণ ভাবে দ্্বিধাভরে, তারপর বাবার কানে কানে বলে কথাটা। খসরু সাহেবের মুখ পলকে ফ্যাকাসে হয়ে যায়। তিনি অস্ফূটে বলেন, ''আশ্চর্য, আগে ... আগে এতবড় জিনিসটা আমরা খেয়ালই করিনি!''

মুনা ফুঁপিয়ে ওঠে।



খসরু সাহেব সলটুর মুখোমুকি বসেন। সলটু হাসে। সলজ্জ ভঙ্গিতে বলে, ''আমাকে হঠাৎ এভাবে ডাকলেন?''

খসরু সাহেব বলেন ভাঙা গলায়, ''বাবা, একটা অনুরোধ ছিলো।''

সলটু বলে, ''জি্ব, বলুন, আমি অবশ্যই রাখার চেষ্টা করবো।''

খসরু সাহেব বলেন, ''বাবা, তুমি বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে এসেছো। তোমার বাবা বড় সরকারী কর্তা ছিলেন, প্রচুর ঘুষ খেয়ে আলিশান বাড়ি গাড়ি করেছেন, তোমার চেহারা সুরত ভালো, আদবকায়দা খারাপ না ... সবদিক দিয়ে তুমি আমার মুনা মায়ের জন্য যোগ্য ... কিন্তু বাবা, তোমার নামটা তোমাকে পালটে ফেলতে হবে।''

সলটুর ফরসা চেহারা লাল হয়ে যায়। ''নাম পালটাতে হবে? কেন? সলটু নামটা খারাপ নাকি?''

খসরু সাহেব মলিন হেসে বলেন, ''সলটু তো অনেক ভালো নাম বাবা, আমি বলছি তোমার আসল নামের কথা। ওটা এফিডেভিট করে পালটে ফেলো, নাহলে মুনা তোমাকে বিয়ে করবে না জানিয়েছে।''

সলটু সটান উঠে দাঁড়ায়। ''এ আপনি কী বলছেন?''

খসরু সাহেব বলেন, ''বাবা, তোমাকে জামাই হিসাবে আমার খুবই পছন্দ। শুধু ঐ নামটা ... ওটা পালটে ফেলো বাবা ... আমি বলি কি, নামটা পালটে আশফাক করে ফ্যালো না?''

সলটু আর্তনাদ করে, ''আশ-ফাক?''

খসরু সাহেব বিব্রত মুখে বলেন, ''তাহলে .. তাহলে ইকবাল?''

সলটু ততোধিক জোরে চেঁচায়, ''ইক-বাল?''

খসরু সাহেব বলেন, ''তাহলে বাংলা নাম রাখো ... নামটা সুধীর করে ফেলো?''

সলটু বলে, ''সুধীর? সবাই আমাকে সুধীর ভাই ডাকুক, তা-ই চান আপনি? এ ক্যামন আব্দার?''

খসরু সাহেব এবার সোজা হয়ে দাঁড়ান, তারপর গম্ভীর গলায় বলেন, ''বাবা সলটু, আশফাক ইকবাল সুধীর মেনে নিতে আমি রাজি আছি, কিন্তু ভালো নাম আকবর এমন কোন ছেলের কাছে আমি মেয়ের বিয়ে দেবো না, এ আমার শেষ কথা!''

রেস্তোরাঁর ভেতরে গমগম করে প্রতিধ্বনি ওঠে .... শেষ কথা ... কথা ... কথা ...!


(সাংবাদিক নিপীড়ক ডিসি আকবরের দস্তমুবারকে...)

1 comment:

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।