Tuesday, September 19, 2006

ক্লোজআপ ওয়ান



গান গেয়ে দর্শক আর বিচারকদের মুগ্ধ করার প্রাণপণ চেষ্টায় রত প্রতিযোগীরা৷ লক্ষ অনেক, বস্তুর পাশাপাশি খ্যাতি, ইলেকট্রনিক আর প্রিন্ট মিডিয়াতে হুলিয়া আর জীবনসারাত্‍সার প্রকাশের মোহ৷ অনেকেই খুব চমত্‍কার গান পরিবেশন করেন, তাঁরা যে অনেক পরিশ্রম আর উত্‍কন্ঠার ভেতরে যাচ্ছেন, বোঝা যায় একেকজনের চেহারা দেখলেই৷ সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি ভালো৷

আমি টিভি দেখি কম, তবে এমন গোছের একটি ভারতীয় অনুষ্ঠান দেখেছিলাম, যেটি আবার মার্কিন একটি অনুষ্ঠানের আগাগোড়া চোথা মেরে করা৷ আমরা ভারত ভারত বলে অনেক জুজুবাজি করি, কিন্তু ভারতীয় অনুষ্ঠানের এমন কার্বন কপি করা যায় না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন৷ এমনকি পরবর্তী রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হলে প্রতিযোগীদের প্রতিক্রিয়াটা পর্যন্ত ঠিক খাঁটি বলে মনে হয় না, এর পেছনেও কোন চোথাবাজ কোরিয়োগ্রাফার আছে বলে সন্দেহ হতে থাকে৷

বিচারক একজন আছেন, শ্রদ্ধেয় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, তিনি প্রতিযোগীদের গান শুনে মন্তব্য করেন, কিছুটা কাব্যিক, শিল্পরসে জরজর ভাব আনার চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুনলে হাসি পায়৷ সেই তুলনায় কুমার বিশ্বজিত্‍ বা সামিনা চৌধুরী অনেক সাবলীল৷

উপস্থাপক দেবাশিস বরাবরের মতো দুর্বিনীত ও বিরক্তিকর একটি চরিত্র, একসময় একুশে টিভিতে তিনি পথের প্যাঁচালি নামের একটি রোড শো-তে উপস্থাপনা করতেন, সেই ঘোর তার বোধহয় আজও কাটেনি, খুবই বিরক্ত লাগলো যখন দেখলাম তিনি প্রতিযোগীদের পাইকারী দরে তুমি-তুমি করে ডেকে যাচ্ছেন৷ তুমি ডাকটা আন্তরিকতার প্রকাশ, কিন্তু ডাকের পেছনে গলার স্বরেরও একটা ভূমিকা আছে৷ দেবাশিস লোকটি তাঁর স্বরে সেই আন্তরিকতা প্রকাশে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ, তাঁর আচরণ দেখে মনে হলো প্রতিযোগিতা করতে এসে তাঁর কাছে যাবতীয় তরুণতরুণী মাথা বিক্রি করে দিয়ে গেছে৷ অভদ্রতাকে প্রশ্রয় দিয়ে কী লাভ অনুষ্ঠানের আয়োজকদের?

গেলোবারের ক্লোজড আপ শিল্পীদের নিয়ে সমুদ্র সৈকতে সাদা পাত্‍লুন পরিয়ে একটি মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে পরবর্তী প্রতিযোগীদের হৃদয়ে উত্‍সাহের সঞ্চার ঘটাতে, সেটিও হতাশাব্যঞ্জকভাবে ভারতীয় অনুষ্ঠানের ছাপচিত্র৷ সামান্যতম সৃজনশীলতা কি আশা করা যায় না অনুষ্ঠানের ওস্তাগরদের কাছ থেকে?

তবুও ভালো লাগে, প্রতিযোগীরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে এখানে আসেন, গান গাওয়ার সময় অনেকের চেহারাতেই সেই স্বপ্নটুকুর ছাপ দেখা যায়, আবার পরবর্তী পর্বে উত্তরণে ব্যর্থ প্রতিযোগীদের আশাহত চেহারাও দেখলাম তিরিশ সেকেন্ড ধরে ধারণ করে দর্শকদের দেখানো হয়৷ এই অংশটুকু না করলেও বোধহয় চলতো, নাটুকে রস যোগ করে মেগাসিরিয়াল না বানালেও দর্শক আগ্রহ নিয়েই দেখতো৷ আমাদের টিভিতে র্যাবের গুলিতে নিহত সন্ত্রাসীর মুখে উড়ে এসে বসা মাছি জুম করে দেখানো হয়, শিল্পীদের স্বপ্নভগ্ন চেহারা দেখানোটাও অনেকটা সে পর্যায়ের অশ্লীলতা বলেই মনে হলো আমার কাছে৷

গতকাল বহুদিন পর এক প্রতিযোগীর মুখে একটা গান শুনলাম ... কুমার বিশ্বজিতের বহুদিন আগে গাওয়া ... চন্দনা গো, রাগ কোরো না, অভিমান করে বলো কী আর হবে ... ক্লোজ আপ ওয়ানের পাপ ক্ষমা করে দিলাম এই গানটা শোনানোর পুণ্যে৷

1 comment:

  1. nolok jetar por closeup 1 theke agroho chole geche...

    kumar bishshojiter oi ekta album er gan amar bhalo lagse... mane beshirbhg gan..

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।