Sunday, September 10, 2006

পানশালা ০০৪

[PUNশালার বিষয়বস্তু সাধারণ বিচারে অশালীন। মোটের ওপর শিশুতোষ নয়। শিশু ও স্বঘোষিত আজীবন নাবালক/নাবালিকারা পড়বেন না। গোলাম রসুলের অনুসারীরা এই গল্পের কোন অংশকে মিসকোট করার চেষ্টা করবেন না।]



ফাকরুল ভাইকে গিলগামেশ বার অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় সবসময় পাওয়া যায় না। মাঝখানে কিছুদিন তিনি গায়েব ছিলেন। আজ ঢুকেই দেখি তিনি সোফার ওপর আধশোয়া। সামনে ভ্লাদিভারের বোতলে খরা।

আমি উল্লসিত স্বরে বলি, "কই ছিলেন অ্যাতোদিন?"

ফাকরুল ভাই মুখে তর্জনী তুলে বলেন, "চুপ! কোন অছলীল কথা নয়। আজকে এখানে লেডিস রয়েছেন।"

আমি তাকিয়ে দেখি, সত্য। একটু দূরে একটা টেবিলে এক লম্বাচুলো ছোকরা আর এক ববছাঁট ছুকরি বিয়ার পানে ব্যস্ত।

আমি বলি, "আহা কী আবার অছলীল কথা বললাম? ছিলেন কই?"

ফাকরুল ভাই বলেন, "আর বোলো না। গোয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ওফ, গোয়া একটা জায়গাও ভাই রে ভাই! ঐ এলাকায় একবার ঢুকলে গেলে আর বাইর হইতে ইচ্ছা করে না। দারুণ!"

এবার ছোকরা ছুকরি দু'জনেই ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়। আমি অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসি।

ফাকরুল ভাই হাত নেড়ে গলা সপ্তমে তুলে বলে যান, "আমি তো প্রথমে যাইতে চাই নাই। কিন্তু মাঝে মাঝে ইচ্ছার বিরুদ্ধেও কিছু কাজ করতে হয়। তুমি মালিনীরে চিনো? চিনো না। মালিনী আমার বান্ধবী। সে তো আমারে কিছুতেই ছাড়ে না, বলে চলো, আমার গোয়ায় চলো ... আমি তোমাকে এইবার আমার গোয়া দেখায় ছাড়বো!"

আমি খুবই অস্বস্তিতে পড়ে যাই। সেই ছুকরি দেখি ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছে ফাকরুল ভাইয়ের দিকে।

ফাকরুল ভাই বলেন হাসি হাসি মুখে, "আমি তো প্রথমে পাত্তা দেই নাই, ভাবছিলাম মালিনী ভুগিচুগি দিচ্ছে ... কিন্তু বিশ্বাস করবা না তুমি ... ও আমারে পুরা গোয়া ঘুরায় ঘুরায় দেখাইলো! দারুণ, ওফফফ!"

আমি পারলে মেঝেতে সেঁধিয়ে যাই।

ফাকরুল ভাই বললেন, "খুবই এনজয় করছি। অনেক সময় ধরে গোয়া দেখলাম। অনেক লাফঝাঁপ দিতে হইছে অবশ্য। তখন তো খুব এক্সাইটেড ছিলাম, পরিশ্রমটা টের পাই নাই, পরে দেখি একটু টায়ার্ড লাগতেছে। তো মালিনীরে বললাম, মালিনী বললো, হিটের কারণে এরকম হইছে। বেশি গরম হয়ে গেছিলাম। মালিনী তো ঝাড়ি দিলো, বলে বোকা, তুমি ক্রিম মাইখা নিলা না কেন শুরুতে। তাইলে তো এতো কষ্ট হইতো না।"

আমি তাকিয়ে দেখি সেই বিয়ারমত্তা তরুণীর মুখ সাদা হয়ে গেছে। আমি ওয়েটারকে দুর্বল গলায় একটা হাতিমার্কা বিয়ার দিতে বলি।

ফাকরুল ভাই পরিতৃপ্ত মুখে হাসেন, "মালিনী তো আমারে পুরা ভিজায় একাকার কইরা ফালাইছিলো। আগে কখনো সাহস কইরা নামি নাই, কিন্তু বলতেছি শুনো, গোয়া অসাধারণ। আমি এখন থেকে গোয়া দিয়েই শুরু করবো।"

আমি চেঁচিয়ে উঠি, "আরে ভাই থামেন তো! বুড়া বয়সে এইসব কী বালছাল শুরু করছেন?"

ফাকরুল ভাই চোখ টিপে বলেন, "আরে বুড়া হইছি দেইখা কি মনে সাধ আহ্লাদ নাই? দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ...।"

ছোকরা ছুকরি গটগট করে উঠে চলে যায়।

ফাকরুল ভাই ক্ষেপে ওঠেন। বলেন, "করলা কী এইটা? কইলাম অছলীল কথা কইবা না মিয়া ... দিলা খ্যাদায়া ... হালায় ফাউল তুমি একটা ...।"

ফাকরুল ভাইয়ের মাথায় বিয়ার ঢেলে দিতে ইচ্ছা করে আমার। ব্যাটা মাতাল।

ফাকরুল ভাই গজগজ করতে থাকেন। "গোয়া নিয়া আলাপ করি, আর তুমি মিয়া আজেবাজে কথা কও। এরপর কোথাও ট্যুরে গেলে আর তোমাগোরে আইসা কিছু কমু না ...।

আমি বিষম খাই।

ফাকরুল ভাই আবার গোড়া থেকে শুরু করেন, কিভাবে দিল্লী থেকে গোয়ায় গিয়েছেন, কিভাবে সমুদ্র সৈকতে লাফঝাঁপ দিয়েছেন, ক্রিম না মাখার কারণেই রোদে পুড়ে তাঁর গায়ের রং কালচে মেরে গেছে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

গল্প শেষ করে আবার বোতল খোলেন তিনি। বলেন, "বুঝছো, একেবারে গোয়ার নেশা ধইরা গেছে। মালিনী আসার সময় বললো, আমার গোয়া একবার যে দেখছে সে বারবার ফিরে আসে। গোয়া তাকে হাতছানি দিয়া ডাকে। আমিও বললাম হ, সত্যই। কতকিছু দেখলাম জীবনে, কিন্তু তোমার গোয়ার মতো সুন্দর আর মনোরম কিছুই না ...।"


[]

2 comments:

  1. goa-mare asolei sundor.haha....
    maf korben mare pakistaner ekta jaiga.
    eru
    http://eru2005.googlepages.com

    ReplyDelete
  2. যেমন ফাকরুল তেমনি তার গোয়ায় ভ্রমণ ... হিমুদা আপ্নি মানুষটা আসলেই চ্রম খ্রাপ।

    ReplyDelete

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।