Sunday, May 21, 2006

নাম নিয়ে ত্যানা প্যাঁচাই


নাম নিয়ে খুব ত্যানা প্যাঁচানো হচ্ছে ব্লগে৷ ভাবলাম আমিও কিছু লিখি৷ আজকাল খালি চোথা মারতে ইচ্ছা করে৷ মৌলিক কিছু লিখে উঠতে পারি না৷

আমার এক বন্ধুর খুব হাত ঘামে৷ তার বাগদত্তারও হাত ঘামে নাকি, বললো একদিন৷ আমার এক বন্ধু রায় দিলো, তোদের বাচ্চা তো পিছলে হাত থেকে পড়ে যাবে৷ তো, সেই অনাগত পোড়াকপালিয়া বাচ্চার নাম হয়ে গেলো "দ্য ফল গাই৷" বন্ধুর নাম হয়ে গেলো ফল গাইয়ের বাপ৷

ঐ একই বন্ধু একটা পুরনো গাড়ি কিনেছে এক কাজিনের কাছ থেকে৷ গাড়িটা পুরনো, বহুল ব্যবহৃত, কিন্তু কন্ডিশন ভালো, চড়েও আরাম৷ একদিন গুজগুজ করছিলো ব্যাটা, গাড়িটার একটা নাম দেয়া দরকার৷ আমি ছিলাম কাছেই, বললাম, "মাসি" হলে কেমন হয়? বেশ মনে ধরলো ওর, আমরা ওর গাড়িকে মাসিই ডাকি এখন৷

আমাদের আরেক বন্ধুর নাম শুরু হয়েছে "না" দিয়ে৷ বিশালদেহী লোক, প্রায়ই আমাদের ছুঁড়ে ফেলে এদিক সেদিক৷ একবার এক রিকশা ওর সাথে ধাক্কা খেয়ে তুবড়ে গিয়েছিলো৷ সঙ্গত কারণেই ওকে আমরা ডাকি নাল্ক৷ রাগে একেবারে সবুজ হয়ে যায় ব্যাটা৷

বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরকৌশল বিভাগের এক বন্ধুর নাম ছিলো গন্ধে মাতরম৷ নামখানা ফল গাইয়ের বাবার দেয়া৷ সেই বন্ধু রাতবিরাতে ব্যায়াম করে ঘুম দিতো, সকালে উঠে গোসল না করেই ক্লাসে চলে আসতো৷ ওর শুষ্কঘামের প্রবল বাসে প্রায়ই অনেকে টলে পড়ে যেতো৷ একই বিভাগের আবুল বাশারকে তার নিরীহ স্বভাবের জন্য আবাল বাছুর ডাকা হতো৷ নাম বলা যাবে না এমন এক সহপাঠিনীত্রয়ীর নাম ছিলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড৷ আবার যন্ত্রকৌশলের এক জুনিয়র বালিকার নাম ছিলো ভি-টু৷

আমার ক্লাসে দুই বন্ধু, দুজনের নামই শিবলি৷ তাই তফাত্‍ করার জন্য উপসর্গ যোগ করতে হলো৷ একজন বগা শিবলি, অন্যজন মোটু শিবলি৷ কিছুদিন পর শিবলি নামটাই মাঠে মারা গেলো, একজন বগা আরেকজন মোটু৷ বগা আবার বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে নিষিদ্ধ মাংস ও পানাভ্যাসের কারণে বেশ মোটাসোটা হয়ে ফিরে এসেছে, এখন মোটু বলে ডাকলে দু'জনেই সাড়া দেয়৷ মুসিবত৷

কলেজে শিক্ষকদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে নানা নাম দেয়া হতো৷ যেমন জাহাঙ্গীর যাঁর নাম, তিনি হয়ে গেলেন জাইঙ্গা৷ নীরদবরণ রায় নামের একজন এসেছিলেন, তাঁকে নিরাবরণ হয়ে যেতে হলো আমাদের পাল্লায় পড়ে৷ তবে সবার ব্যাপারে এতো উদার ছিলাম না আমরা, আজেবাজে নামই দেয়া হতো বেশি৷ গন্ধরাজ, এক শিক্ষক যাঁর দাড়িতে প্রবল দুর্গন্ধ ছিলো, কয়েক হাত দূর থেকে পাওয়া যেতো৷

স্কুলে থাকতে ঠকেছিলাম, আমাদের এক মৌলবি স্যার ছিলেন, ভীষণ ফর্সা, সফেদ পায়জামা পাঞ্জাবি আর চোখা টুপি পরতেন, ওনাকে যে ডে শিফটের ছেলেরা দূর থেকে "মোমবাতি" ডেকে ক্ষ্যাপাতো আমি কি আর তা জানতাম? এক বন্ধুর অনুরোধে সরলচিত্তে ওঁর কাছে গিয়ে গলা খাঁকরে সজোরে বলেছিলাম, মোমবাত্তি! উনি চোখের পলকে তেড়ে এসে পটাং করে এক চড় বসিয়ে দিলেন গালে :(৷ বেরসিক৷


No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।