Monday, May 08, 2006

রবি করে জ্বালাতন


সাদা আর কালো আমাদের বড় প্রিয়, সময় যত এগোয়, আমরা হয় সাদা নয় কালো ঢালতে থাকি সবকিছুর ওপরে, আর হাজারো শেড হারিয়ে যায় আমাদের স্তুতি নয় নিন্দার নিচে৷

রবীন্দ্রনাথকে আমি চিনেছি শৈশবে আমার বড় ভাইয়ের কল্যাণে, তিনি খুব চমত্‍কার করে রবীন্দ্রনাথের ছবি আঁকতেন, বিভিন্ন কোণ থেকে৷ চক খোদাই করে রবীন্দ্রনাথের মুখের ভাস্কর্যও করেছিলেন তিনি, আমাদের একটা বইয়ের শেলফের কাঁচে একদিন হঠাত্‍ দেখি লাল স্কচ টেপ কেটে টুকরো টুকরো করে বিশ মিনিটের মধ্যে এক রবীন্দ্রমুখ এঁকে ফেললেন৷ রবীন্দ্রনাথের লেখার চেয়ে মুখই চিনেছিলাম ভালো, গম্ভীর দাড়িয়াল বৃদ্ধ৷

বাংলাদেশ টেলিভিশনে রবীন্দ্রসঙ্গীত কোন কারণে কখনোই আকর্ষণ করেনি আমাকে, হয়তো মুগ্ধ হবার মতো বয়স আমার তখনও হয়নি, কিংবা উপস্থাপনের ভঙ্গিটি বালকবালিকাদের উদ্দেশ্য করে গৃহীত ছিলো না৷ পড়ার বইতে মাঝে মাঝে এই বৃদ্ধ নানা কবিতাংশ ও গল্পাংশ নিয়ে হাজির হয়েছেন, বিরক্ত লাগতো অনেক৷

আমি রবীন্দ্রনাথের কীর্তিতে মুগ্ধ হই গল্পগুচ্ছ পড়তে গিয়ে৷ ছোট ছোট ঘটনা, টুকরো টুকরো এক একটা গল্প, কী অদ্ভূত সব রসে সিক্ত৷ রবীন্দ্রনাথ একদিন বিকেলের রোদ ঠেলে বেরিয়ে আসেন যেন বইয়ের পাতা ঠেলে, তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায় সহজেই৷

এর পর অনেক বছর কেটে গেছে, দামড়া হয়ে গেছি এখন৷ রাজর্ষি পড়ে এই ভদ্রলোকের ওপর বিরক্ত হয়েছিলাম, উপন্যাসের শুরুতে এক বিরাট চমক ও প্রত্যাশা জাগিয়ে পড়ে সেটিকে হত্যা করার জন্য৷ আমি এখনও পড়িনি রবীন্দ্রনাথের অনেক উপন্যাস, অনেক নাটক, অনেক কবিতা৷ কিন্তু এক একটা লেখায় আবারো নতুন করে বেরিয়ে আসতে দেখি এক এক রকম রবীন্দ্রনাথকে৷

কত রবীন্দ্রপূজারীকে চিনি, চিনি রবীন্দ্রবিদ্্বেষী অনেককে৷ রবীন্দ্রকে কেউ বন্ধুর মতো করে কি দেখেন না? যার কাছে যখন খুশি যাওয়া যায়, চাওয়া যায় অনেককিছু? নিঃসঙ্গ, বিষণ্ন রবীন্দ্রনাথ এক একটা গানে, কবিতায় মিশে থাকেন, শুধু বেরিয়ে আসেন শরণাথর্ীদের ডাকে৷

রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকবেন আরো অনেক বছর, আমার সন্তানরা এক এক করে তাঁকে চিনে নেবে নিজেদের মতো করে৷ জন্মবার্ষিকী বা মৃতু্যবার্ষিকীতে না, ব্যক্তিগত আনন্দে, বিষাদে তাঁকে স্মরণ করবে সুর আর বাণীতে৷


No comments:

Post a Comment

রয়েসয়েব্লগে মন্তব্য রেখে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য মডারেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর পীড়া আপনার সাথে আমিও ভাগ করে নিলাম।